জমি দখল ও সেচে বাধার অভিযোগ অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জমি দখলের চেষ্টা, সেচের পানি বন্ধ করে কৃষিকাজে বাধা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য রিয়াজুল ইসলাম।

শনিবার রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের গোগ্রাম মৌজায় ১৯৮৭ সালে নিবন্ধিত দু’টি দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবার ১ দশমিক ৬৬ একর জমি ক্রয় করেন। জমিটি তাদের নামে নামজারি করা রয়েছে এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে।

তার অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা ও হামলার হুমকি দিয়ে জমি থেকে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের গভীর নলকূপ (ডিপ) এবং একটি সেমি-ডিপ থেকে তাদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রিয়াজুল ইসলামের ভাষ্য, স্থানীয় এক আইনজীবী ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। গত ৩ জুলাই রাতে তার আমবাগানে ঢুকে ১০১টি আমগাছ উপড়ে ফেলা ও কয়েকটি গাছ কেটে নেয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ৫ জুলাই গোদাগাড়ী মডেল থানায় নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে তার দাবি।

তিনি জানান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর প্রতিকার পাননি। তিনি বৈধ জমির দখল নিশ্চিত, সেচের পানি চালু, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ডিপ স্কিমের সভাপতি মো: সামায়ন বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই; সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ডিপের চালক আসাদুল ইসলাম জানান, কমিটির সিদ্ধান্ত না থাকায় পানি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বর্তমানে ডিপে পর্যাপ্ত পানি না ওঠায় সবাইকে প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করাও সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী মো: জিয়াউল হকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মুখপাত্র সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।