মুহাম্মদ সালমানুল হক আনাস
হঠাৎ একটি ঘটনা ঘটলেই তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা, বিতর্ক, ব্যঙ্গ, ট্রল, প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া। এটিকে আমরা বলি ‘ইস্যু’ এবং ইস্যু বানাতে বা উপভোগ করতে যেন আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কেউ ইস্যুকে ব্যবহার করে হাসি-ঠাট্টা করে, কেউ সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করে, আবার কেউ এসব ব্যবহার করে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একটি ঘটনা ঘটে, আর সেটিকে ঘিরে শুরু হয় ফায়দা নেয়ার প্রতিযোগিতা। কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে, কেউ ইউটিউব-ফেসবুক চ্যানেলের ভিউ বাড়ায়, আবার কেউ ধর্মীয় বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেয়। অথচ কুরআন ও হাদিসের আলোকে একজন মুমিনের উচিত, অবস্থা বুঝে পরিপক্ব ও ন্যায়ভিত্তিক ভূমিকা রাখা। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক (অবিশ্বস্ত) ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা যাচাই করে দেখো, যেন অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতি না করে ফেলো, পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে না হয়।’ (সূরা হুজরাত, আয়াত-৬)
এই আয়াত আমাদের শেখায় সংবাদ এলেই প্রতিক্রিয়া নয়; বরং তা যাচাই করে সত্যতা নির্ণয় করা জরুরি। অথচ আজকের সমাজে অনেকেই যাচাই না করেই তা ছড়িয়ে দেয়। ফলে অপপ্রচার, গুজব ও আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত সমাজে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘কারো মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে তাই বলে বেড়ায়।’ (মুসলিম) অর্থাৎ, যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রচার করা ইসলামে মারাত্মক গোনাহ। যারা ইস্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে গুজব রটায়, সমাজকে বিভ্রান্ত করে, তাদেরকে ইসলাম কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করেছে। পক্ষান্তরে, ইসলামের মূলনীতি হলো- সচেতনতা, সংযম, যুক্তি এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে কথা ও কাজ করা। আল্লাহ পাক বলেন- ‘সৎ কাজের আদেশ করো, অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখো এবং বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করো। নিশ্চয়ই এটি দৃঢ়তার কাজ।’ (সূরা লুকমান, আয়াত-১৭)
অতএব, আমাদের কর্তব্য- ১. ইস্যুভিত্তিক আবেগের জায়গায় বুঝ ও বিবেচনা স্থাপন করা। ২. যাচাই ছাড়া কিছু শেয়ার না করা ও তা বন্ধ করা। ৩. যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইস্যু বানিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, তাদেরকে আইন ও ন্যায়ের আওতায় আনা। ৪. সমাজে সত্য ও স্থিরতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া। ইস্যুর পেছনে ছুটে আমরা যেন বিবেক হারিয়ে না ফেলি। একজন প্রকৃত মুমিন ইস্যুর পেছনে নয়, সত্য ও সুস্থ বিবেকের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়। ইসলাম চায় না সমাজে হঠাৎ উত্তেজনায় অন্ধ আবেগের বিস্ফোরণ হোক; বরং ইসলাম চায় সংযত, গঠনমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠুক।
লেখক : শিক্ষার্থী, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা, চট্টগ্রাম



