নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্য দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে নেমেছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণ, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য কমানো, জনভোগান্তির অবসান, খুনি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে জনদুর্ভোগ লাঘব, তেল-গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূরীকরণ এবং বিভিন্ন অপরাধের বিচারসহ ১১ দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করে ১১ দলীয় ঐক্য।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ১১ দফা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের কর্মসূচি। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মত দমনে অতীতে গুলি, গুম, হত্যা, নির্যাতন, ঘরছাড়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসবের সাথে জড়িতদের পুনরায় দেশে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। লংমার্চে বাধা না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো বাধা দেয়া হলে কর্মসূচি আরো জোরদারভাবে সফল করা হবে।
সমাবেশে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা লংমার্চ, ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট (রেলপথে) লংমার্চ এবং ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ।
সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রার আহ্বান জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সচিবালয় কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; সেখানে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে। তিনি চুলায় গ্যাস, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি এবং যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং পাইপলাইনের গ্যাসের দাম না বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট দফতর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার পাঁচ মাসেও গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিএনপির ২০ লক্ষাধিক লোক চাঁদাবাজিতে নেমেছে। তিন মাসে ৩১ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছে। সরকার চালাতে শিক্ষিত, জ্ঞানী, দক্ষ লোকের প্রয়োজন। ব্যাংক খেলাপি দুর্নীতিবাজদের দেশ চালানো যাবে না। জনগণের দাবি আদায়ের জন্য যা যা প্রয়োজন তা করব বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ক্যাম্পাসগুলোতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে। জুলাইযোদ্ধাদের পরিবারগুলোর চোখে পানি এসেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করছি- ছাত্রদলকে সংযত করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, যদি জনগণের দুঃখ না বুঝে সরকার তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার রাখে না। অবিলম্বে জ্বালানি ও তেলের দাম কমাতে হবে। নইলে গদি ছেড়ে দিতে হবে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা বিদ্যুৎ চাই, বিশুদ্ধ পানি চাই। বিদ্যুৎ গ্যাসের অভাবে শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। আপনারা ব্যর্থ হয়ে গেছেন। বিএনপি জুলাইয়ে বিশ্বাস করে না, সংস্কার চায় না। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এ দেশের মানুষ বিপ্লব করেছে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, একসময় আমরা গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম, যা আজ শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে। গ্যাস ব্লকগুলো থেকে ভারত ও মিয়ানমার পাইপের মাধ্যমে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে এলএনজি আমদানির কথা বলা হচ্ছে। দেশকে নিরাপত্তা ও জ্বালানি ঝুঁকিতে ফেলে দেয়া হচ্ছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ বলেন, শুধু খাম্বা আছে কারেন্ট নাই। চুলা আছে গ্যাস নাই। যানবাহনের লাইন আছে জ্বালানি নাই এত নাই নাই নাই এর দেশে বিএনপি সরকারেরও আর প্রয়োজন নাই। এমতাবস্থায় তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মুফতি মুখলেসুর রহমান কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতারা বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ডিপিডিসি শ্রমিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আ ন ম বজলুর রহমান, মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুখপাত্র মো: নাজমুল ইসলাম তালুকদার।
এ সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপিসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে
ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের কালো ছায়া এখনো দেশে রয়ে গেছে। এই আগ্রাসন সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে। দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ সেই কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জাতিকে আমরা বিভক্ত করতে চাই না। যারা জাতিকে বিভক্ত করতে চায় তারা দেশের দুশমন। আমাদের ভিন্নমত ও ভিন্ন আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ সাময়িকভাবে দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদকে চিরতরে বিদায় করব ইনশাআল্লাহ।
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম, বাচিক শিল্পী শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, নাট্যকার মাহবুব মুকুল ও আবৃত্তিকার আহসান হাবীব খানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।
ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে
ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদের দোসররা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের কালো ছায়া এখনো দেশে রয়ে গেছে। এই আগ্রাসন সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে। দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ সেই কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জাতিকে আমরা বিভক্ত করতে চাই না। যারা জাতিকে বিভক্ত করতে চায় তারা দেশের দুশমন। আমাদের ভিন্নমত ও ভিন্ন আদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ সাময়িকভাবে দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তাহলে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদকে চিরতরে বিদায় করব ইনশাআল্লাহ।
দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম, বাচিক শিল্পী শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, নাট্যকার মাহবুব মুকুল ও আবৃত্তিকার আহসান হাবীব খানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনটির নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি।



