তৃণমূলের রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনের শীর্ষ আসন

Printed Edition

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই বেছে নিলেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সব ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কথা তার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারেক রহমান তার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া গতকাল তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বৈঠক চলার মধ্যে বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রিজভী বলেন, প্রার্থী হওয়ার সাথে সাথে বিএনপির মহাসচিব পদ এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে তিনি পদত্যাগ করেছেন। মহাসচিবের শূন্য পদে কে আসছেন প্রশ্ন করা হলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব দেয়া আছে তিনি যেটি যে প্রক্রিয়ায় যেভাবে হোক তিনি সেটা মতামত নিয়ে জানাবেন। সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন। এখন শুধু দলের রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার কথা আমরা জানালাম। দুপুর ১২টায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের এই বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, চিফ হুইপ, হুইপগণ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে দলের চেয়ারম্যান নেতাদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন।

যে কারণে মির্জা ফখরুল : তৃণমূলের রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে এই মনোনয়নের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে এসেছে। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়া, শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান, বিএনপির তৃণমূলের নেতা, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের মহাসচিব, সবশেষ এলজিআরডি মন্ত্রীসহ বহু ধাপ পেরিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির জন্য দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশÑ দুই সময়েই জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ফলে রাজনীতি তার কাছে একেবারে অপরিচিত কোনো জগৎ ছিল না, তবে তার নিজের রাজনৈতিক উত্থান হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল ও সাংগঠনিক রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা আরো দৃশ্যমান হয়।

শিক্ষাজীবন শেষে মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। তার কর্মজীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে দায়িত্ব পালন। ১৯৭৯ সালের শেষদিকে জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে নামেন মির্জা ফখরুল। দুই বছর পর, ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সরকারি জীবনীতে তাকে ওই নির্বাচনে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে তার দীর্ঘ উত্থান। দলের তৃণমূল থেকে ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে একসময় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন।

মির্জা ফখরুল ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। ওই সময় চারদলীয় জোট সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বগুড়া-৬ আসনে তিনি নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ না নেয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এটিও দেশের ইতিহাসের নজিরবিহীন।

মির্জা ফখরুলের বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উত্থান ঘটে ধাপে ধাপে। ২০০৯ সালের জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দলের শীর্ষ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও অসুস্থতা এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের সময় দেশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

বিরোধী দলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় তাকে একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার নয়াপল্টনের সংঘর্ষের পর তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। বিএনপির দীর্ঘ সরকারবিরোধী আন্দোলনে মির্জা ফখরুল ছিলেন দলটির সবচেয়ে দৃশ্যমান নেতাদের একজন। দলীয় চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দেশে থেকে সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি, জোটের সাথে আলোচনা এবং আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণায় তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিএনপির আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান দলটির প্রধান রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির আন্দোলন, মামলা, গ্রেফতার ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও তিনি দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলোÑ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে নিজেকে মাঠের নেতা হিসেবেই উপস্থাপন করেছেন।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য তার সংযত বক্তব্য ও পরিমিত রাজনৈতিক ভাষা। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরিবর্তে যুক্তিনির্ভর অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে মতবিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত আচরণ ও শালীনতার কারণে বিভিন্ন মহলে তার গ্রহণযোগ্যতার কথাও আলোচিত হয়ে থাকে। বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়ার পেছনে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় আনুগত্য, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ভূমিকা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তৃণমূলে বিএনপির নেতাকর্মীরাও মির্জা ফখরুলের ওপর আস্থা রাখেন।

২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মির্জা ফখরুল এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতি পদে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গতকাল ১৩ আগস্ট বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করে এবং মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার উদ্যোগ নেয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে রাষ্ট্রপতি বলা যাবে ভোট ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।

রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাদের দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বিভিন্ন জীবনীতে তাদের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। স্ত্রী একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, এখন অবসরে। বড়মেয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সিডনিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি ইংরেজি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

মির্জা ফখরুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি : দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি হলে সরকারের স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে মির্জা ফখরুলকে। একই সাথে তার ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনও শূন্য হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিএনপি ও সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেনÑ এ প্রশ্ন এখন দলের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। প্রায় ১৬ বছর ধরে মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ ও গ্রহণযোগ্য নেতায় পরিণত হয়েছেন। এখন তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দু’জনের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিলকে ঘিরে প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ দেয়া হতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিল বা এর আশপাশের সময়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। রুহুল কবির রিজভী এবার নির্বাচন করেননি এবং তাকে মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়নি। এ কারণে মহাসচিবের পদ শূন্য হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ।

এ ছাড়া মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও শূন্য হবে। এই মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হবে- তা এখনো পরিষ্কার নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী দায়িত্ব পেতে পারেন। এ ছাড়া রুহুল কবির রিজভীকে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের সময় তার সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়ে যাবে। ফলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুলের এই সম্ভাব্য যাত্রা শুধু একজন রাজনীতিকের পদোন্নতির ঘটনা নয়, বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠছে।