ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে প্রকাশ্যে ‘চোখ তুলে ফেলার’ হুমকির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে তারাকান্দার রাজনৈতিক অঙ্গন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনাটি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেনকে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি স্থানীয় বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদারের নামও উল্লেখ করেন। ভিডিওতে সোহরাব হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আর কোনো দিন যদি রাস্তায় নামছস, একটারেও ঘরে ফিরতে দিতাম না... একবারে চোখ তুইল্লালবাম।’ এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টি ও সঙ্ঘাত উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে। তার ভাষ্য, ভিডিওতে যেভাবে মোতাহার হোসেন তালুকদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাতে বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আতঙ্কিত নন বলেও দাবি করেন।
অন্য দিকে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদধারী নেতা নন; একজন সমর্থক হতে পারেন। বিষয়টি জানার পর ভিডিওটি মুছে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
একই সাথে মোতাহার হোসেন তালুকদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় অভিযোগ করলেও মামলা নেয়া হয়নি। তার দাবি, সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় শনিবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: গিয়াস উদ্দিন ফয়েজী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাশিদ বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়া এ ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ প্রসঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।



