বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান আসরে বারবার নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে চলেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আসরের প্রথম ম্যাচে বল তেমন পাননি খেলার জন্য। এর পর থেকেই শুরু এই অলরাউন্ডারের ঝড়। যার সব শেষটি ছিল গত পরশু চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচে। চট্টগ্রামের করা ১৬৯ রানের জবাবে ব্যাট করছিল রংপুর। একটা পর্যায়ে ১৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১২৯ রান সংগ্রহ তাদের। ফলে ম্যাচ জিততে শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ৪১ রান। রংপুরের জয়ের হিসাবটা ছিল জটিল। উইকেটে ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটার খুশদিল শাহ ও মাহমুদুল্লাহ। ১৭তম ওভারে ২০ রান নিয়ে সমীকরণটা সহজ করে ফেললেন এই দুই ব্যাটার। তবে ৩টি চার, এক ছক্কা ও ১ রানসহ ১৯ করে বড় কৃতিত্বটা ছিল মাহমুদুল্লাহর। এতে ম্যাচটি নিজেদের গ্রিপে নিয়ে আসে রংপুর। এর পর ১২ বলে ২২ রান করে খুশদিল আউট হলেও ৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। ১৯ বলে ১টি ছক্কা ও ৩টি চারে ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল্লাহ।
বিপিএলের চলমান আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছিল রংপুর রাইডার্স। এই ম্যাচে ৪ বলে ১ রানে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। পরের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে ১ বলে দরকার হয় ১ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু দলকে কাক্সিক্ষত জয় এনে দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ৪০ ছুঁই ছুঁই এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। পরে সুপার ওভারেও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে হেরে গিয়েছিল তার দল। এক দিন পরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মাহমুদুল্লাহ। গত ২ জানুয়ারি সিলেট টাইটান্সের ১৪৫ রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই কিছুটা চাপে ছিল রংপুর রাইডার্স। ১৫তম ওভারে কাইল মায়ার্স আউট হলে চাপ আরো বেড়ে যায়। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ৫ ওভারে ৪৯ রান। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন মাহমুদুল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ১৬ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরা হন এই ফিনিশার। ৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় রংপুরের।
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও ব্যাট হাতে সেই ধারায় ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। বয়স যে শুধুই একটা সংখ্যা, রংপুর রাইডার্সের লড়াই করার মতো পুঁজি গড়ে তারই প্রমাণ দিলেন এবারো। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় রংপুর। ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ মিথুনের তালুবন্দী হয়ে তৌহিদ হৃদয় ফিরলে উইকেট আসেন মাহমুদুল্লাহ। শুরুটা করেন খুবই ধীরস্থির। এরপর স্বরূপে বেরিয়ে আসেন এই ব্যাটার। ডেভিড মালানকে নিয়ে ৫৪ বলে গড়লেন ৭৪ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে মালান ফিরলে ভাঙে জুটি। তাসকিনের বলে আবদুল্লাহ আল মামুনের তালুবন্দী হয়ে যখন মাহমুদুল্লাহ ফিরলেন, তখন তার নামের পাশে জ্বল জ্বল করছে ইনিংসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫১ রান। ৪১ বলের ইনিংসটিতে কোনো ছক্কা না থাকলেও ৭টি চার হাঁকিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ।
মাহমুদুল্লাহর চেয়ে এই পজিশনে ভালো কেউ নেই : আশরাফুল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার পর সীমিত ম্যাচ খেলেই বিপিএলে নেমেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাটিং কোচ আশরাফুলের ভাষায়, ‘কিংবদন্তি ব্যাটারদের খুব বেশি ব্যাটিং অনুশীলন লাগে না। তারা মস্তিষ্কের কাজটাই বেশি করে। মাহমুদুল্লাহ ফিটনেস, মানসিক প্রস্তুতি আর ট্রেনিংয়েই বেশি জোর দিচ্ছে। মাহমুদুল্লাহর চেয়ে এই পজিশনে তার চেয়ে ভালো কেউ নেই।’
আশরাফুল বলেন, ‘ অথচ নিলামের শুরুতে নিজের ক্যাটাগরিতে কোনো দলই পাননি তিনি। শেষ দিকে ফের নাম তোলা হলে তখন মাহমুদুল্লাহকে দলে নেয় রংপুর। আমাদের একজন ফিনিশার দরকার ছিল। মাহমুদুল্লাহর অভিষেক ২০০৭ সালে, এর পর থেকে এই ভূমিকাটা কতটা ভালো করেছে, তা সবাই জানে।’
বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়কের ভাষায়, ‘এখন যে ব্যাটিং করছে, ওর গত ৩-৪ বছরের সেরা। ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। এখনও অসাধারণ সময় কাটাচ্ছে, আমাদের সৌভাগ্য তাকে পাওয়া।’



