মৌলভীবাজার-২ আসন

লড়াই হবে চতুর্মুখী, জয় নির্ধারণ করবেন চা-শ্রমিকরা

ময়নুল হক পবন, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার)
Printed Edition
লড়াই হবে চতুর্মুখী, জয় নির্ধারণ করবেন চা-শ্রমিকরা
লড়াই হবে চতুর্মুখী, জয় নির্ধারণ করবেন চা-শ্রমিকরা

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় এবার এই আসনে লড়াই হচ্ছে চতুর্মুখী। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের পাশাপাশি দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ঘিরেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। নির্বাচনের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন চা-শ্রমিক ভোটাররা।

কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা। মোট ভোটার প্রায় তিন লাখ। এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের জেলে সম্প্রদায়, ২৩টি চা বাগানের শ্রমিক এবং ৩০টি খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়া-গারো জনগোষ্ঠী এ আসনের গুরুত্বপূর্ণ ভোটার। অতীতের নির্বাচনে কখনো মুসলিম লীগের প্রার্থী, কখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী এ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, আসনটি দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও এবার দলটি নির্বাচনী মাঠে না থাকায় ভোটের হিসাব পাল্টে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোট ভোটের প্রায় অর্ধেকের বেশি ভাগ ভোট কাস্ট হতে পারে নির্বাচনে। এর মধ্যে চা বাগানের শ্রমিক ভোটারই ৪০ থেকে ৫০ হাজার। এ ছাড়া জেলে সম্প্রদায়, খাসিয়া-গারো ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মোট ভোট প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার। এই ভোট ব্যাংকের বড় অংশ যেদিকে যাবে, ফলাফল সেদিকেই ঝুঁকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র বলেছে, এবার এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান, বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শওকতুল ইসলাম, জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, সমাজতান্ত্রিক দলসহ (মার্কসবাদী) অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির সংগঠন কুলাউড়ায় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। দলীয় নেতাকর্মী, চা-শ্রমিক ও সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন পেলে বিএনপি ভালো ফল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে জামায়াতও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় সংগঠনটি বাড়তি উদ্দীপনায় প্রচার চালাচ্ছে। এ ছাড়া জামায়াত আমিরের এলাকায় বেশ কয়েক দফায় সফর ঘিরে নেতাকর্মীরা সক্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খান দল-মতের ঊর্ধ্বে একটি শক্ত ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। চা-শ্রমিক, হিন্দু ও খাসিয়া ভোটে তার প্রভাব রয়েছে। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা ফজলুল হক খান ফুলতলী পীর অনুসারী ও আল ইসলাহর কর্মীসমর্থনের কারণে একটি রিভার্ভ ভোট ব্যাংক নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে মৌলভীবাজার-২ আসনে শেষ পর্যন্ত চা-শ্রমিক ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কার হাতে উঠবে বিজয়ের মালা।