নয়া দিগন্ত ডেস্ক
- আল-আকসা ও জেরুসালেমে উত্তেজনা
- পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি নিহত, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা
- গাজা নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক
- গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠাবে কসোভো
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও ইসরাইলি হামলা থামছেই না। সর্বশেষ গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের জেইতুন এলাকায় এক বিমান হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আল-শাফি মসজিদের কাছে এ হামলা চালানো হয় বলে ওয়াফা সংবাদ সংস্থার বরাতে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে ওয়াফা জানায়, সোমবার ভোরে একই এলাকায় ড্রোন হামলায় আরো দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং একজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের মতে, আসকুলা জংশনের কাছে একদল মানুষের ওপর এ হামলা চালানো হয়। গত রোববার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে খান ইউনুসের আল-মাওয়াসি এলাকায় দু’টি পৃথক হামলায় আটজন নিহত হন এবং বনি সুহেইলা এলাকায় গুলিতে আরো একজন নিহত হন। এদিকে ইসরাইলি বাহিনী গাজা সিটির আল-তুহফাহ এলাকায় ভবন ধ্বংস করেছে এবং দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুস এলাকায় গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৭৮ জনে এবং আহত এক লাখ ৭২ হাজার ১৩ জন। এতে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি নিহত
বসতি স্থাপনকারীদের হামলা
অধিকৃত পশ্চিমতীরেও সহিংসতা বাড়ছেই। সোমবার হেবরনের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে আনাদোলু জানায়, রামজি আল-আওয়াওদা নামের ওই ব্যক্তিকে গুলি করার পর চিকিৎসা সহায়তা পেতে বাধা দেয়া হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। অন্য দিকে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা হেবরনের সাঈর এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা দু’টি গাড়িতে আগুন দেয় এবং প্রায় ২৫টি ভেড়া লুট করে নিয়ে যায়। বাড়িঘরে বর্ণবাদী সেøাগানও লেখা হয়। পাশাপাশি আল-মিনিয়া এলাকায়ও বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে গাড়ি পোড়ানোর চেষ্টা করে।
ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪৪৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিমতীরে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৩৯ জন নিহত, প্রায় ১১ হাজার ৭০০ জন আহত এবং ২২ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে চলাচলে বিধিনিষেধের সুযোগ নিয়ে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বাড়িয়েছে।
আল-আকসা ও জেরুসালেমে উত্তেজনা
জেরুসালেমে নতুন করে বেড়েছে উত্তেজনা। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে পশু কোরবানি দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে সতর্কতা জারি করেছে জেরুসালেম গভর্নরেট। তারা বলছে, ইহুদি পাসওভার উৎসবকে ঘিরে কিছু গোষ্ঠী মসজিদের ভেতরে নতুন ধর্মীয় আচার চালুর চেষ্টা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করতে পারে। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের। টানা ৩০ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মুসল্লিদের প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে। এদিকে খ্রিষ্টানদের পাম সানডে উদযাপনেও বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলি পুলিশ জেরুসালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক কার্ডিনাল পিজ্জাবাল্লাকে চার্চ অব দ্য হোলি সেপালখারে প্রবেশে বাধা দেয়, যা শতাব্দীর মধ্যে প্রথম ঘটনা বলে দাবি করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাস এ ঘটনাকে ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। হামাসও এ ঘটনাকে জেরুসালেমের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল থেকে সব ধর্মের উপাসনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজা নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক
গাজাকে ঘিরে নতুন একটি নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসঙ্ঘে উপস্থাপিত এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা পেতে হলে হামাসসহ সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র হতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একপক্ষীয় চাপ সৃষ্টি করে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর দায় চাপায়, যেখানে ইসরাইলের ভূমিকা বা জবাবদিহিতা নিয়ে কিছুই বলা হয়নি। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের। প্রস্তাব অনুযায়ী, অস্ত্র জমা দিলে সহায়তা দেয়া হবে, আর না দিলে ওই এলাকাগুলোকে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। এতে মানবিক সহায়তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিকল্পনায় মূল সমস্যা-‘দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব’ উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে এটি শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নতুন সঙ্কট তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া প্রতিশ্রুত অর্থ সহায়তার বড় অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা প্রস্তাবের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী পাঠাবে কসোভো
গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কসোভো। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনার আওতায় গঠিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগ দেবে দেশটি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সহায়তার অভিজ্ঞতা থাকায় গাজার জনগণের পাশে দাঁড়াতে তারা প্রস্তুত। ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান ও আলবেনিয়াও এই বাহিনীতে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কসোভো কতসংখ্যক সেনা পাঠাবে তা জানানো হয়নি।



