পদ্মায় আকস্মিক ভাঙন আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

Printed Edition

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

উত্তাল ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, নদীর পানি বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মাতীরে হঠাৎ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ সরে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ায় ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন শতাধিক পরিবার।

ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কিছু বসতবাড়ি, সড়ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ ফসলিজমি। আতঙ্কে নদীতীরসংলগ্ন কয়েকটি পরিবার তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানির তীব্র স্রোতে হঠাৎ পাড় ধসে পড়তে শুরু করে। গত সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে চোখের সামনে বেশ কিছু জমি জিও ব্যাগসহ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আর একটু এগোলেই সড়কটিও থাকবে না। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া না হলে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হতে হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে এর আগে ফেলা জিও ব্যাগের একটি অংশ প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে সরে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোবারক ঢালী জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই জোয়ারের পানির সাথে ঘূর্ণাবর্তে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। নদীর তলদেশে এখন লগি ফেলে দেখা গেছে ২৫ থেকে ২৮ হাতেরও বেশি গভীরতা তৈরি হয়েছে। এতে আশপাশের এলাকা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়। পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকাকে পদ্মার কূপোকাত থেকে রক্ষায় নদীতীরে স্থায়ীভাবে ব্লক স্থাপনের জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত মঙ্গলবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপাতত জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ করার চেষ্টা চলছে। লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো: শাহাদাত হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং শুরু করা হয়েছে এবং তা এখনো চলমান। প্রাথমিক সার্ভে অনুযায়ী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটার জায়গায় ভাঙন হয়েছে।