বাঁধ সংস্কারের আড়ালে গাছ নিধন, ঝুঁকিতে উপকূল

Printed Edition

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা

খুলনার কয়রা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজের আড়ালে বাঁধ রক্ষাকারী গাছগুলো কেটে বন উজাড় হচ্ছে। এতে উপকূলীয় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, মেগা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের প্রায় ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে। তবে কাজের সময় বাঁধ প্রশস্ত করতে গিয়ে ঢাল থেকে মাটি কাটার পাশাপাশি নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হরিহরপুর লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা যায়, স্কেভেটর দিয়ে গাছের গোড়া থেকে মাটি কাটায় বহু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শাকবাড়িয়া নদীর তীরজুড়ে কেওড়া, গরান, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অনেক স্থানে গাছের গুঁড়ি ও শিকড় উপড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোথাও আবার গাছের গোড়ায় মাটি কেটে নেয়ায় গাছ হেলে পড়েছে বা শুকিয়ে গেছে।

একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে পাথরখালী, জোড়শিং, গোবরা-ঘাটাখালী, মহারাজপুরের লোকা ও মহেশ্বরীপুরের কালিকাপুর এলাকাতেও।

স্থানীয় বাসিন্দা গীতা রানী সরকার অভিযোগ করেন, বাঁধ নির্মাণে নিয়ম মানা হয়নি। স্কেভেটর দিয়ে বাঁধের গোড়া থেকে মাটি কাটায় ঢালের গাছগুলো কেটে ফেলতে হয়েছে। ‘এসব গাছই এত দিন ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে আমাদের রক্ষা করেছে। এখন গাছ না থাকায় সামান্য দুর্যোগের সময়ই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: নূরুল ইসলাম সরদার বলেন, বন বিভাগ কিছু গাছ টেন্ডার দিয়েছে বলে শুনেছেন। তবে তার দাবি, রাতের আঁধারে ঠিকাদারদের লোকজন অধিকাংশ গাছ কেটে সেই মাটি বাঁধ নির্মাণে ব্যবহার করছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবো সাতক্ষীরা-২-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো গাছ কাটা হয়নি। বাঁধের কাজ শুরু হলে স্থানীয় লোকজনই গাছ কেটে নিয়ে গেছে।

অন্য দিকে খুলনা সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুপ্রিয়া হুই জানান, গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগ অবগত ছিল না এবং এ ধরনের কোনো অনুমতিও দেয়া হয়নি। অনুমতি ছাড়া বনের গাছ কাটার সুযোগও নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, বলেন তিনি।

উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের ঢালে জন্মানো গাছ ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় প্রাকৃতিক বর্ম হিসেবে কাজ করে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হলে বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়বে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যাবে। তাই দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।