প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

Printed Edition

গত ২৯ এপ্রিল দৈনিক নয়া দিগন্ততের তৃতীয় পাতায় ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন কেনায় দাম ও তথ্যে বড় গরমিল’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রতিবেদনের শিরোনামেই অসত্য তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সবধরনের নিয়ম মেনে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গাজীপুর জেলা প্রশাসন এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট এবং অর্থ কমিটির অনুমোদন নিয়ে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার কলমেশ্বর মৌজায় ভবনসহ ২৮.০৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনসহ জমির ক্রয় ও দলিল মূল্যে গরমিল রয়েছে। মূলত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বচ্ছতার সাথেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রেজিস্ট্রি অফিসের রেট অনুযায়ী জমির সরকারি মৌজা রেট ও বাড়ির প্রতি বর্গফুটের দর মেনে বাড়িসহ জমির মোট মূল্য ১৩,০০,০০,০০০/- (১৩ কোটি) টাকা দলিলে উল্লেখ করা হয়। সিন্ডিকেটের ২৭৩তম এবং অর্থ কমিটির ১৯৩তম সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালিককে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে ১৩,০০,০০,০০০/- (১৩ কোটি) টাকা। বাকি ৫,২১,৫৫,৯৫০/- (পাঁচ কোটি একুশ লক্ষ পঞ্চান্ন হাজার নয় শত পঞ্চাশ) টাকা স্ট্যাম্প ফি, রেজিস্ট্রি ফি, স্থানীয় কর, জমির ট্যাক্স (জমির মূল্যের উপর), ঋঋ৫৩ কর (জমির মূল্যের উপর), ঋঋ৫৩ কর (ভবনের উপর), ভ্যাট এবং দলিল লেখকের ফি বাবদ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করেছে। অর্থাৎ বাড়িসহ জমি ক্রয় বাবদ সর্বমোট খরচ হয়েছে ১৮,২১,৫৫,৯৫০/- (১৮ কোটি ২১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫০) টাকা। এই প্রক্রিয়ায় ইউজিসি, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন।

প্রতিবেদক দাবি করেছেন, ক্রয়কৃত ভবনটি ‘জোড়া ভবন’। বাস্তবে এটি জোড়া ভবন নয়। প্রকৌশলগত কারণে বড় ভবনগুলোতে ‘এক্সপ্যানশন জয়েন্ট’ রাখতে হয়, যা এই ভবনেও বিদ্যমান। গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত এবং রাজউক কর্তৃক গত ২৬-০৬-২০০৭ তারিখে শিল্প ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত এই নকশাটি ৯ (নয়) তলা বিশিষ্ট। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটির প্রতি ফ্লোরের আয়তন ১০ হাজার ৭১৫ বর্গফুট এবং সর্বমোট আয়তন ৯৩ হাজার বর্গফুট। অথচ প্রতিবেদক দাবি করেছেন এর আয়তন ৬০ হাজার বর্গফুটের বেশি নয়। সচেতন মহল অবগত আছেন যে, ব্যবহারযোগ্য (টংধনষব) আয়তনের চেয়ে পুরো ভবনের আয়তন (ইঁরষঃ-ঁঢ় ধৎবধ) অনেক বেশি থাকে।

অনক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে তাদের জন্যে একটা আলাদা অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং তৈরি করার জন্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই ক্রয়সম্পন্ন করেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিসহ ভবন ক্রয়ে কোনো অনিয়মের প্রশ্রয় দেয়নি। এ ক্ষেত্রে সব নিয়ম যেমন মানা হয়েছে, তেমনি সরকারি সব ফি যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। তাই জমিসহ ভবন ক্রয়ে দলিল, বাস্তবতা ও অর্থমূল্যের কোনো অসঙ্গতি নেই।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এই ধরনের অসম্পূর্ণ ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ দিনের অর্জিত সুনাম নষ্ট করে।