নামাজে জানাজা সম্পন্ন

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ প্রবাসীর লাশ দেশে

Printed Edition
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর লাশের কফিন ঘিরে পরিবারের সদস্যদের কান্না :  নয়া দিগন্ত
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর লাশের কফিন ঘিরে পরিবারের সদস্যদের কান্না : নয়া দিগন্ত

সিলেট ব্যুরো

কাতারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধার লাশ দেশে পৌঁছানোর পর একসাথেই তাদের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টায় উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নস্থ আকুনি মাদরাসা মাঠে এই নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুফতি আবুল হাসান।

জানাজায় অংশ নিতে এবং কফিনবন্দী তরুণদের শেষবারের মতো একনজর দেখতে মাদরাসা মাঠে এলাকার হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে নিহতদের নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে গতকাল সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে লাশগুলো সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং সিলেট জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাশগুলো স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

বেলা ১১টার দিকে লাশগুলো কানাইঘাটে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি আর বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার বাতাস। প্রিয়জনকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানরা।

নিহত জিবাল আহমদের দুই শিশু সন্তান পারভেজ (৮) ও তানিশা (৪) বিমানবন্দরে বাবার কফিনে মাথা রেখে শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এই করুণ দৃশ্য বিমানবন্দরে উপস্থিত সকলকেই অশ্রুসজল করে তোলে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনরা জানান, পরিবারের স্বপ্ন পূরণ ও সচ্ছলতার আশায় কাতারে পাড়ি জমিয়েছিলেন এই পাঁচ যুবক। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাদের সেই স্বপ্নগুলো আজ কফিনবন্দী। তাদের এমন মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত ২০ জুন কর্মস্থলে যাওয়ার পথে কাতারের শাহানিয়া এলাকায় পাঁচ প্রবাসী যুবককে বহনকারী একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারালে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। নিহতরা সবাই বয়সে তরুণ এবং তাদের বয়স ২৬ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে।

নিহত প্রবাসীরা হলেন- কানাইঘাট উপজেলার ঝিঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আমরপুর গ্রামের আবদুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ, আগতালুক গ্রামের সলিম উল্লাহর ছেলে মোস্তাক আহমদ, একই গ্রামের জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণবাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ি নয়াগ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ।

গতকাল বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণের সময় সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, নায়েবে আমির হাফিজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান, সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী এবং কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদসহ স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের কাছে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। কাতার থেকে লাশের সাথে এসেছেন কাতার খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আবদুল হাসিব চৌধুরী।