দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ এবং নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিলে এসে পার পেয়ে, কারো কারো কপাল খুলেছে। কপাল পুড়েছে কারো কারো। এবার মনোনয়নপত্র দাখিলে মাঠপর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে অনেক দলীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রার্থিতা পাননি। কিন্তু ইসিতে আপিল করে অনেকেরই কপাল খুলেছে। এসব নিয়ে অনেকের মধ্যে ইসি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রার্থীদের কারো কারো অভিযোগ ইসি এখানে দ্বৈতনীতি দেখিয়েছে। এদিকে, সিইসিকে চিঠি দিয়ে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ বলেন, বিদেশী নাগরিকত্ব আইনগতভাবে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কেউ সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হতে পারেন না। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি কেবল ‘প্রক্রিয়াধীন আবেদন’-এর ভিত্তিতে মনোনয়ন বৈধ করা হয়, তাহলে তা শুধু সংবিধান লঙ্ঘন নয়, বরং নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট করার শামিল।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল অষ্টম ও শেষ দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশনের উপস্থিতিতে এই আপিলের শুনানি সন্ধ্যার পরও চলে। এদিকে, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বৈধতা পেলেন ফেনী-৩ বিএনপি প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু : দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করা হয়েছিল। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা: মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক এ আবেদন করেন। তবে গতকাল আপিল শুনানি শেষে মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশ বহাল রাখা হয়েছে ইসির আপিল শুনানিতে।
ডা: মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকের অভিযোগ ছিল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া তথ্যে মিন্টু ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এরপর ১৫ ডিসেম্বর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে ফেরেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। তবে ফখরুদ্দিন মানিকের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। ফলে ত্রয়োদশ নির্বাচনে লড়াই করতে আবদুল আউয়াল মিন্টুর আর কোনো বাধা নেই।
ইসির শুনানিতে সজীব ভূইয়া : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের গতকাল উপস্থিত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এনসিপির মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক মাহবুব আলম জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শুনানির শেষ দিনে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আপিল শুনানিতে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
কুড়িগ্রাম-৩ জামায়াতের ব্যারিস্টার মাহবুবের প্রার্থিতা বৈধ : নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
মাহবুবুল আলম বলেন, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলাম। আপিলে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেয়েছি। ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন কুড়িগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন, আসলামকে ইসি : সংসদের চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুনানিকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা (ঋণটা) দিয়ে দিয়েন। টাকাটা না দিলে কিন্তু জনরোষ তৈরি হবে। মানুষ হিসেবে এটা আপনাকে বললাম।
আপিল শুনানিতে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী নিজে ঋণ নেননি তিনি গ্যারান্টার।
এর আগে, ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের জন্য জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: আনোয়ার ছিদ্দিক আপিল করেছিলেন। দুই পক্ষের আইনজীবী দীর্ঘ সময় যুক্তিতর্ক শেষে ইসির আপিল শুনানি শেষে জামায়াত প্রার্থীর আপিল না মঞ্জুর করে।
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: আনোয়ার ছিদ্দিকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, উনি (আসলাম চৌধুরীর) কনভিক্টেড। ইসি কোনোভাবেই উনার প্রার্থিতা বহাল করতে পারে না। আমরা ইসিতে ন্যায়বিচার পাইনি, উচ্চ আদালতে রিট করব।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর মিলে প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ সাত হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। তবে তার ঋণ চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে তার সর্বমোট ঋণ রয়েছে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে, পাঁচটি ব্যাংকে ও অন্যান্য মিলে তার ঋণ রয়েছে ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এ ছাড়াও জামিনদার হিসেবে তার ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৫৯ কোটি টাকা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্টর হিসেবে ২৮৫ কোটি টাকা। তার ঋণের পরিমাণ সম্পদের তুলনায় ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। যদিও বিএনপির এই নেতা এসব ঋণে বেশির ভাগই জামিনদার ও ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে হয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। মনোনয়নপত্রের সাথে দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসলাম চৌধুরীর ঋণ বেশি হলেও তার নগদ অর্থও সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১১ কোটি টাকা।
আপিল প্রত্যাহার বগুড়া-১ বিএনপির কাজী রফিক বৈধ : এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির তার আপিল প্রত্যাহার করায় সংসদের বগুড়া-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুনানি শেষে কাজী রফিকের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ব্যারিস্টার কাজল বলেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ঐক্যের কথা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের সামনে আহসানুল তৈয়ব জাকির তার আপিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
দলীয় চিঠি না থাকায় যশোর-১ বিএনপির তৃপ্তির প্রার্থিতা বাতিল : দলীয় মনোনয়নের চিঠি না থাকায় যশোর-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে যশোর-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে মনোনয়ন দেয়া হলেও পরে শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়। বিএনপি যে তৃপ্তিকে মনোনয়ন দিয়েছে এমন কোনো ডকুমেন্টস সাবমিট করতে পারেননি তিনি।
ঋণখেলাপির কারণে চট্টগ্রাম-২ বিএনপির সারোয়ারের প্রার্থিতা বাতিল: ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বিভাগ। বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন একই আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো: নুরুল আমিন।
ঢাকা-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতা পেলেন মিজানুর: সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচিত সেই মিজানুর রহমান প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ঢাকা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেছিলেন, দৈবচয়নের ভিত্তিতে তারা যে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই-বাছাই করেন, তার মধ্যে ছয়জনের ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি এবং চারজনের মধ্যে মাঠপর্যায়ে গিয়ে মাত্র একজনকে ভেরিফাই করতে পেরেছেন। আমরা তাদের খুঁজে না পাওয়া প্রত্যেককেই সশরীরে হাজির করেছি এবং অ্যাফিডেভিট দিয়ে বলেছি যে তারা আসলে তাকে সমর্থন দিয়েছেন। তার প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। এটা শুনে কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে।
শেরপুর-২ বিএনপির ফাহিম বৈধ প্রার্থী:
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিদেশী নাগরিকত্ব ইস্যুতে জটিলতা নিরসন করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল সন্ধ্যায় বৈধ ঘোষণা করে ইসির আপিল আদালত। কমিশনের কাছে ফাহিম চৌধুরীর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব ত্যাগের যথাযথ তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে কমিশন প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব হয়নি শুনানিতে : সিইসি
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আপিল শুনানি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক। এই লক্ষ্য থেকেই আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টিও শিথিল করেছি।
আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে টানা ৯ দিনের আপিল শুনানি শেষে গতকাল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
শুনানি শেষে সিইসি বলেন, অনেকেই হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টি আমরা কিভাবে ছেড়ে দিয়েছি, তা আপনারা দেখেছেন। কারণ, আমরা চাই নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হোক। তবে আপনাদের (প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের) সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমি আমার এবং আমার টিমের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করতে পারি, কোনো পক্ষপাতিত্ব করে আমরা কোনো জাজমেন্ট দেইনি। অনেক বিচার-বিবেচনা এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করেছি।
শুনানিতে প্রার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে নাসির উদ্দিন বলেন, আপনারা যেভাবে কোয়ারি করেছেন এবং জবাব দিয়েছেন, আমি দেখে অভিভূত। আমাদের আলেম-ওলামারা একে ‘বাহাস’ বলেন। আপনাদের এই ধৈর্যশীল আচরণের জন্য ইসির পক্ষ থেকে মোবারকবাদ জানাই। তিনি বলেন, আপনারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ধৈর্য ধরে বসেছিলেন, অনেকে আমাদের আগেও এসেছেন। আপনাদের এই সহযোগিতার জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, যেসব ঋণ খেলাপিকে আমরা ছাড় দিয়েছি, তা কিছুটা মনে কষ্ট নিয়েই দিয়েছি। শুধুমাত্র আইন তাদের পারমিট (অনুমতি) করেছে বিধায় আমরা তাদের প্রার্থিতা বৈধ করতে বাধ্য হয়েছি।
শেষ দিনে ২৩ জন মাঠে ফিরলেন : আপিল শুনানির শেষ দিনে ২৩ জন বৈধতা পেয়ে ভোটের মাঠে ফিরলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির শেষ দিনে গতকাল ৬৩টি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হয়। শুনানিতে ২৩টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে ২১টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয়েছে দু’টি আবেদন। কমিশন ৩৫টি আপিল নামঞ্জুর করেছে বলে ইসির মো: রুহুল আমিন মল্লিক পরিচালক (জনসংযোগ) জানান।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল অষ্টম দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশনের উপস্থিতিতে এই আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ইসি জানায়, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৮টি আবেদন এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৬টি আবেদন। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাতিলাদেশ বহাল রাখা-সংক্রান্ত একটি আপিল নামঞ্জুর হয়েছে। শুনানিকালে তিনটি আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে এবং একজন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। কমিশন দু’টি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রেখেছে।
আর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গতকাল ছিল পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে সাতটি এবং পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।



