বরখাস্ত হলেন আলোচিত সেই বিপ্লবসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

ডিআইজি, এসপিসহ ২৩ কর্মকর্তাকে বদলি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের একসময়ের দাপুটে কর্মকর্তা বিপ্লব কুমারসহ ডিএমপির সাবেক ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছে সরকার। এসব কর্মকর্তা ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর (ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান) থেকে পলাতক রয়েছেন।

তারা হলেন- ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত বিপ্লব কুমার সরকার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত কাজী আশরাফুল আজীম, কক্সবাজার এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস এবং ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো: গোলাম রুহানী।

গতকাল বুধবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক ছয়টি আদেশে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত এবং বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষকে মৌখিক বা লিখিতিভাবে অবহিত না করে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাকে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে দু’টি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও এর কোনো জবাব দাখিল করেননি। পরে বিভাগীয় মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী বিধি এবং বাংলাদেশ কর্ম কমিশন প্রবিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন একমত পোষণ করে। সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বিপ্লব কুমার সরকারকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তারিখ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড দেয়া হলো।

অন্য এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্ত এবং বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত সাবেক ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের মৌখিক বা লিখিতিভাবে অবহিত না করে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাকে যোগদানের জন্য বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে দু’টি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হলেও এর কোনো জবাব দাখিল করেননি। পরে বিভাগীয় মামলার সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরপর সরকারি কর্মচারী বিধি এবং বাংলাদেশ কর্ম কমিশন প্রবিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন একমত পোষণ করে। সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আনীত সরকারি কর্মচারী বিধি অনুসারে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তারিখ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড দেয়া হলো।

একইভাবে অন্যান্য প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক ডিসি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক ডিসি কাজী আশরাফুল আজীম ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট থেকে, কক্সবাজারের উখিয়ার এপিবিএন ৮-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানী ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ডিএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহানীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব পদে প্রেষণে যোগদানের জন্য ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ডিএমপি থেকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। পরে পুলিশ সদর দফতরের এক স্মারকে তাকে খাগড়াছড়ি এপিবিএনে বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।

তিনি ডিএমপি থেকে দায়িত্বভার অর্পণের পর থেকে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা এপিবিএনে যোগদান না করে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। কর্মস্থলে যোগদানের জন্য অনলাইনে আহ্বান এবং লিখিত নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও তিনি হাজির হননি। তিনি ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

ডিআইজি, এসপিসহ ২৩ কর্মকর্তাকে বদলি

পুলিশের রংপুর ও বরিশাল রেঞ্জে নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দেয়া হয়েছে। একই সাথে কুষ্টিয়া, পঞ্চগড়, নারায়ণগঞ্জ ও খুলনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) বদলি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ছাড়া বাকি তিন জেলায় নতুন এসপি দেয়া হয়েছে।

গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক চারটি প্রজ্ঞাপনে মোট ২৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়।

তাদের রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। আর শিল্প পুলিশের ডিআইজি মো: জুলফিকার আলী হায়দারকে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার এসপি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের বদলি করা হয়েছে। গাজীপুরের এসপি মো: শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে কর্মরত এসপি মো: আমিনুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার এসপি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে। খুলনার এসপি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত সরকার ওমর ফারুককে খুলনার এসপি করা হয়েছে।

এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের (ঢাকা) অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনকে বরিশাল রেঞ্জে, হাইওয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদাচ্ছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা, হাইওয়ের এসপি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে এসবি (ঢাকা) এবং মো: রেজাউল করিমকে এপিবিএনে, পিবিআইর এসপি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশে, এপিবিএনের এসপি দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়েতে র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো: ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়েতে বদলি করা হয়েছে।