ঈদ ঘিরে সিলেটের বাজারে রঙিন আমেজ

Printed Edition
সিলেটের একটি শপিংমলে ঈদের কেনাকাটার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
সিলেটের একটি শপিংমলে ঈদের কেনাকাটার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে সিলেট নগরের ঈদ বাজার। শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলোতে সাজানো হয়েছে আধুনিক ও রুচিশীল পোশাকের নতুন নতুন সংগ্রহ। আকর্ষণীয় এসব কালেকশন দেখতে এবং পছন্দের পোশাক কিনতে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে নগরের বিভিন্ন শপিংমলে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, পুরোপুরি জমজমাট ঈদ বাজার হতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদে আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তৈরী পোশাকের সর্বোচ্চ সংগ্রহ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে নতুন ডিজাইনের পোশাক।

ফ্যাশন ডিজাইনাররা বলছেন, ফ্যাশনের জগৎ প্রতিনিয়ত বদলে যায়। মানুষের রুচি, পছন্দ এবং জীবনধারার পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে পোশাকের ডিজাইনও নতুন মাত্রা পায়। দেশের ঐতিহ্য, ক্রেতাদের ক্রয়মতা, আবহাওয়া ও ঋতুভিত্তিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে এবারের ঈদের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। একই সাথে পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য ও নান্দনিকতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে তৈরি নতুন কালেকশনেও আগ্রহ বাড়ছে ক্রেতাদের।

গত বুধবার দুপুরে জেল রোডের আড়ংয়ে কেনাকাটা করতে আসা জান্নাতুল মাওয়া সায়মা বলেন, ‘এই সময়টায় শপিং করলে কিছুটা স্বস্তি থাকে। এখন কালেকশনও বেশি। প্রায় অর্ধেক কেনাকাটা হয়ে গেছে। বাকিটা দুই-এক দিনের মধ্যেই শেষ করব।’

বিক্রয়কর্মী সাদিয়া আফরিন জানান, ঈদ উপলে তাদের আউটলেটে নতুন নতুন বিভিন্ন ধরনের কালেকশন রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা ঈদের কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছেন।

শিশুদের পোশাকের েেত্রও এবার এসেছে নতুনত্ব। নগরের একটি বেবি শপের বিক্রয়কর্মী কামরুন্নাহার বলেন, এবারের ঈদ কালেকশনে শিশুদের জন্য আরামদায়ক এবং রঙিন পোশাককে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ব্লক প্রিন্ট, ফুলেল নকশা এবং কার্টুন থিমের প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ছেলেশিশুদের পোশাকে পাঞ্জাবি ও ফতুয়া এবার বেশি জনপ্রিয়। এসব পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে জ্যামিতিক প্রিন্ট, চেক, স্ট্রাইপ, ফুলেল ব্লক প্রিন্ট ও ঐতিহ্যবাহী মোটিফ। কলার, কাফ ও বুকে কনট্রাস্ট পাইপিং কিংবা সূচিকর্মের কাজ যোগ করে পোশাকে নতুনত্ব আনা হয়েছে। অনেক পোশাকে কাঠের বোতাম, হ্যান্ডমেড ট্যাসেল কিংবা ছোট এমব্রয়ডারি প্যাঁচ যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রিন্টের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু পাঞ্জাবিতে। পাশাপাশি অ্যাসিমেট্রিক কাট বা ছোট দৈর্ঘ্যরে ফতুয়ার চলও বাড়ছে। মেয়েশিশুদের পোশাকে বৈচিত্র্য আরো বেশি। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি কাটছাঁটের ফ্রক, সারারা, গাউন, লেহেঙ্গা ও সালোয়ার-কামিজ। এসব পোশাকে ফুলেল নকশা এখন বেশ জনপ্রিয়।

কাপড়ের েেত্রও রয়েছে বৈচিত্র্য। সুতি কাপড়ের পাশাপাশি সিল্ক, লিনেন, ভিসকস ও মসলিনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ শপিংমলে। লেইস, নেট ও অরগাঞ্জা কাপড়ে লেয়ারিং প্যাটার্ন ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ঘেরওয়ালা ফ্রক, নায়রা কাট ও কটি ফ্রক, যা শিশুদের সাজে রাজকীয়তা এনে দিচ্ছে। এ ছাড়া লেহেঙ্গার আদলে তৈরি ‘রেডিমেড শাড়ি’ও নজর কাড়ছে। জামদানি অনুপ্রাণিত বুটিক কাজ, নকশিকাঁথার স্টিচ কিংবা আয়নাযুক্ত সুতার কারুকাজ আধুনিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে হাতে করা সূক্ষ্ম অলংকরণ পোশাককে আরো উৎসবমুখর করে তুলছে। আল হামরা শপিং সিটিতে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘দুই ছেলের জন্য পাঞ্জাবি, পায়জামা, ফতুয়া ও জুতা কিনেছি।

হকার্স মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা সাদিক-ফাবেহা দম্পতি জানান, সন্তানদের জন্য তারা শপিংমলের ভেতর থেকেই পোশাক কিনেছেন। তবে নিজেদের জন্য ফুটপাথের দোকানে খুঁজছেন সাশ্রয়ী পণ্য।

নগরের একটি শোরুম ফেইথ লাইফস্টাইলের ব্যবস্থাপক মুহিব্বুল্লাহ বলেন, তাদের শোরুমে মূলত প্রিমিয়াম মানের পোশাকের চাহিদা বেশি। গত শুক্রবার থেকে ভালো বিক্রি শুরু হয়েছে। তিনি জানান, চাকরিজীবীদের অনেকেই এখনো ঈদ বোনাস পাননি। বোনাস পাওয়ার পর বাজারে তাদের উপস্থিতি বাড়বে।

এখন মূলত ব্যবসায়ী ও অন্যান্য শ্রেণীর ক্রেতারা আসছেন। কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেতার ভিড় ও বিক্রি দুটোই কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।