- মোখা বিমানবন্দর ও বন্দরে সৌদির ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- ইরানের অভিনন্দন, কৌশলগত সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা
কৌশলগত মোখা শহর সম্পূর্ণ দখলের পর ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দাবি করেছে হাউছি বিদ্রোহীরা। এতে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ‘বাব আল-মানদেব’ প্রণালীর ওপর তাদের কর্তৃত্ব চরম শক্ত ভিত লাভ করেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক লাইভ আপডেটে এই তথ্য জানানো হয়।
এদিকে মোখা শহরটি হাতছাড়া হওয়ার পর হাউছি-নিয়ন্ত্রিত স্থানীয় বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত দু’টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি সামরিক বাহিনী। এ ছাড়া মোখা বন্দরে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মোখা থেকে সরকারি বাহিনীর দ্রুত ও রহস্যজনক পিছু হঠার ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অন্দরে তীব্র বিভাজন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এত সহজে কিভাবে শহরটি হাউছিদের হাতে চলে গেল, তা তদন্ত করতে একটি বিশেষ সামরিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যালাই আবদুল্লাহ সালেহের ভাতিজা তারিক সালেহের নেতৃত্বাধীন ব্রিগেডগুলোর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যারা সেখানে মোতায়েন ছিল। সরকারি জোটের শরিকদের মধ্যে পারস্পরিক কোন্দল ও অবিশ্বাসের কারণে হাউছি বিরোধী প্রতিরোধ ভেঙে পড়েছে।
ইয়েমেন সেনার এই ভঙ্গুর ও বিচ্ছিন্ন কাঠামোর কারণে হাউছিদের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা হামলা চালিয়ে হারানো ভূখণ্ড উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি আল-ধাল এলাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরাও নিজ নিজ অবস্থান ছেড়ে পিছু হঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লোহিত সাগর উপকূলজুড়ে সৌদি জোট তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।
সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার আশঙ্কা
শীঘ্রই হাউছি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্রের পক্ষ থেকে এক বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা আসার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযানে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্র থেকে প্রমোশন হয়ে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত কৌশলগত তেল পাইপলাইনকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হাউছি বাহিনীর এই দ্রুত ও ঝটিকা অগ্রযাত্রাকে ‘ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবস্থান এবং প্রতিরোধ অক্ষের নিজস্ব সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ও কৌশলগতভাবে এক বড় অন্ধগলিতে ঠেলে দিয়েছে।



