টি-২০ সিরিজ জিতেই গেল অস্ট্রেলিয়া

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

একটি জমজমাট ফাইনালের স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। দ্বিতীয় টি-২০তে জিতে সিরিজে সমতা ফেরাবে টাইগাররা, আর তৃতীয় ম্যাচটি পরিণত হবে স্নায়ুক্ষয়ী মহারনে। এমন আশাই ছিল সবার চোখে। কিন্তু স্বপ্নের সেই মঞ্চ তৈরির আগেই সব আলো নিভিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। অভিজ্ঞতা, দৃঢ়তা আর চাপ সামলানোর অসাধারণ দক্ষতায় স্বাগতিকদের ৭ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ২-০ ব্যবধানে। আগামী সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দু’টি।

সাগরিকার গ্যালারিতে তখনো ছিল প্রত্যাশার ঢেউ। ১৯৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লড়াই চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বে ব্যাটাররা হাল ছাড়েননি, শেষ পর্যন্ত লড়াইও জমে ওঠে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কয়েকটি ভুল, কিছু অপচয় আর অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ম্যাচটিকে টাইগারদের নাগালের বাইরে ঠেলে দেয়। ৬ উইকেটে ১৮৯ রান তুলেই থেমে যেতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৯৬। বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন, শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সম্মান রক্ষা, নাকি হোয়াইটওয়াশের তিক্ত স্মৃতি বয়ে বেড়ানো?

জয়ের দারুণ সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশের। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি-২০তে দর্শকভর্তি গ্যালারি অপেক্ষায় ছিল জয়ের উৎসব করার। বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যে তৌহিদ হৃদয়-তানজিদ হাসান তামিমদের জয় ক্রীড়াপ্রেমীদের আনন্দ বাড়িয়ে দিত বহুগুণ। কিন্তু শেষের দিকের ব্যর্থতায় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশের।

প্রথমে ব্যাট করে রেনশর ৫২ বলে চারটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় অপরাজিত ৮৯ রান, টিম ডেভিডের ২৬ বলে ৪৫ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। নাসুম দু’টি, সাকলাইন, নাহিদ রানা, মোস্তাফিজ একটি করে উইকেট নেন। সিরিজ বাঁচাতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৯৭।

একটা পর্যায়ে স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ১২.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১৩০ রান। হাতে ৮ উইকেট নিয়ে ৪৪ বলে ৬৭ রানের সমীকরণ মেলানো অসম্ভব কিছু ছিল না। উইকেটে ছিলেন দুই সেট ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান। কিন্তু ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে ইমনকে ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেটে তাঁদের (সাইফ-ইমন) জুটি ভেঙে ধাক্কা দিয়েছেন হার্ডি। ঠিক তার পরের ওভারে সাইফকে ফেরান জোয়েল ডেভিস। সাইফ ও ইমন ৪২ ও ৩৬ রান করে আউট হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমীকরণ জটিল হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে যায় ৭ রানে। ইমন-সাইফ ফেরার পর শামীম পাটোয়ারী ৮ বলে ৭ রান করে আউট হয়েছেন। আব্দুল গাফফার সাকলাইনও (১১ বলে ১৩*) যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারেননি হৃদয়কে। শেষ তিন বলে ১৮ রানের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে হৃদয় ছক্কা-চার মারলেও তা বাংলাদেশের হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। হৃদয় ২২ বলে ৩৫ রান করলেও প্রথম ১৬ বলে তিনি করেছিলেন ১৭ রান।

ইমন-সাইফ আরো একটু দায়িত্ব নিয়ে খেললে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন টি-২০ অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়। ‘হ্যাঁ, আমরা সত্যিই ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তবে কয়েকটা জায়গায় উন্নতি করতে হবে। থিতু হয়ে শেষ না করে আসা পীড়াদায়ক। যখন ব্যাটাররা (ইমন-সাইফ) সেট হয়ে যায়, তখন তাদের আরও বড় ইনিংস খেলতে হবে।’

প্রথম দুই টি-২০ হেরে সিরিজ হারিয়ে বাংলাদেশকে এখন চোখ রাঙাচ্ছে ধবলধোলাই। হারের পর হৃদয় বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সব কিছু ভালোই হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ম্যাচ আমাদের জিততে হবে। তা না হলে হারের হতাশা নিয়েই শেষ করতে হবে। শেষ ম্যাচের আগে আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।’

নিয়মিত টি-২০ অধিনায়ক লিটন দাস না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টি-২০তে অধিনায়কত্ব করেছেন তৌহিদ হৃদয়। লিটন ১৪ জুন মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে চোট পাওয়ায় প্রথম দুই টি-২০ র নেতৃত্ব দিয়েছেন তৌহিদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া : ২০ ওভারে ১৯৬/৫ (ইংলিস ১১, মার্শ ২০, কনোলি ১, রেনশ ৮৯*, ডেভিড ৪৫, নিখিল ৮, ডেভিস ১৩*; নাসুম ২/২৭, সাকলাইন ১/৫৩, নাহিদ ১/৩৬, মোস্তাফিজ ১/৩৪)।

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৮৯/৬ (তানজিদ ৩০, সাইফ ৪২, সৌমথ্য ১৫, পারভেজ ৩৬, হৃদয় ৩৫, শামীম ৭, সাকলাইন ১৩*; হার্ডি ২/৪০, রেনশ ১/১৩, জথ্যাম্পা ১/৩৯, ডেভিস ১/২১)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ম্যাচসেরা : ম্যাট রেনশ।