শেষ সময়ে জুতা গয়না কেনার ব্যস্ততা

পোশাকের সাথে মিলিয়ে নতুন ডিজাইনের কড়ি, পুঁতি, শেল, সুতা, পিতলের তৈরি গয়নার প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। এমনকি ইমিটেশন, কাঠ-বাঁশ-মাটিসহ মেটালের গয়নারও চাহিদাও কম নয়। আবার বিত্তশালীরা কিনছেন সোনা-রুপা।

আবুল কালাম
Printed Edition
রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত
রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে কেনাকাটার দৃশ্য : নয়া দিগন্ত

ঈদকে কেন্দ্র করে শেষ সময়ে চলছে জুতা আর গয়না কেনার ব্যস্ততা। শাড়ি থেকে শুরু করে নারীদের বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সাথে রঙ ও ডিজাইন মিলিয়ে সৌখিনরা কিনছেন গলার মালা, কানের দুল, হাতের ব্রেসলেটসহ নিজের পছন্দের আংটি। রাজধানীর গাউছিয়া, নিউ মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, বাইতুল মোকাররম মার্কেট ও ফুটপাতের ভাসমান গয়না ও জুতার দোকান সরেজমিনে ক্রেতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর শেষ সময়ে এসে মানুষ গয়না, জুতাসহ পোশাকের সাথে সাজসজ্জার আনুষাঙ্গিক জিনিস কিনতে ভিড় করেন। মূলত পোশাকের সাথে মিলিয়ে নতুন ডিজাইনের কড়ি, পুঁতি, শেল, সুতা, পিতলের তৈরি গয়নার প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি। এমনকি ইমিটেশন, কাঠ-বাঁশ-মাটিসহ মেটালের গয়নারও চাহিদাও কম নয়। আবার বিত্তশালীরা কিনছেন সোনা-রুপা। রাঝধানীর গাউছিয়া, চাঁদনি চক মার্কেট ঘুরে দেখা যায় তাতে জার্মান সিলভার ও চায়নার চাহিদা বেশি। রুপার ওপরে মিনাকারির কাজ, কৃত্রিম মুক্তা, পাথর দিয়ে সাজানো হচ্ছে গলার মালা, কানের দুল ও চুড়ি। আছে আয়না, কাপড় ও সুতার তৈরি গয়না। ধাতু ও কাঠের তৈরি আংটিগুলোর দাম শুরু ১৫০ টাকা থেকে। ২৫০ থেকে ৪০০ টাকার ভেতরেই পাওয়া যাচ্ছে জার্মান সিলভারের গলার মালা ও কানের দুলের সেট। শাড়ি বা ওয়েস্টার্ন সব কিছুর সাথে কানের দুল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

অন্য দিকে চুড়ি ও বালা ৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ধাতুর তৈরি গয়না, পাথর বসানো কানের দুল ৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, রঙিন পুঁতির মালা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, গলা ও কানের সেট ১৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মখমল লাগানো ১২ পিসের এক সেট চুড়ির দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া ৫০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে একগুচ্ছ রেশমি কাচের চুড়ি।

নিউমার্কেট ও গাউছিয়ায় পাওয়া যাচ্ছে দেশী বিদেশী বিভিন্ন ধরনের জুতা। নকশার পাশাপাশি জুতার রঙ ও কাটে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। বেশির ভাগ চলছে ইন্ডিয়ান নাগরা, দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। পাশ্চাত্য পোশাকের সাথে কেডস পরতে চাইলে গুনতে হবে ১২ হাজার টাকা।

নিউমার্কেটের ব্যাগ ও জুতার দোকানের বেশির ভাগ জুতাই এসেছে চীন ও থাইল্যান্ড থেকে। এসব জুতার দাম শুরু হাজারের ওপর থেকে। চামড়ার তৈরি ব্যাগও মিলবে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকায়। চাঁদনি চকে ক্রিসবেলা, রোবো টিফেনি, সাইবা, ক্রিস্টিনা অ্যান্ড ওকের ব্যাগ। দাম আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া ননব্র্যান্ডেড ব্যাগ ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা। রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেট ও বসুন্ধরা ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা গয়নার ঢং আর রং মিলিয়ে কিনছেন রেশমি, মেটাল কিংবা রুপার তৈরি চুড়ি, দুল ও গলার হার। বেশির ভাগ গয়নায় পুঁতি, কাঠ, পিতল, কড়ি, শেল ও সুতা ব্যবহার করা হয়েছে। নব্য ফ্যাশনের হাল ধরতে ফ্যাশন ডিজাইনাররা হাউসগুলোতে কাঠ, পিতল ও চুমকির ব্যবহারে বিভিন্ন মোটিফের গয়না সাজিয়েছেন।

ক্রেতারা জানান, এবার গয়নার পাশাপাশি কাজের জায়গায় পরার উপযোগী ছোট নকশার গয়নারও পসরা সাজিয়েছেন তারা। ধাতু, পুঁতি, মুক্তার ব্যবহারে গয়নাগুলোর নান্দনিক সব ডিজাইন আর নিখুঁত কারুকাজ আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের। এসব গয়নার দাম ২৫০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে।

তবে সোনা, রুপা, হীরাসহ বিভিন্ন দামি ধাতুর জুয়েলারির দোকানে বেচাবিক্রি সেভাবে নেই। মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সঙ্কটের সাথে গয়নার অতিরিক্ত দামের কারণে সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় জুয়েলারি কেনা কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বর্তমানে সব থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এক লাখ ৫৪ হাজার ৯৪৫ টাকা। আর এক ভরি রুপার দাম ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। এর সাথে যোগ হবে গয়নার মজুরি। অনেকেই সোনার পরিবর্তে রুপার গয়না ব্যবহার করছেন এখন।