রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে বেনাপোল কাস্টমসে কড়াকড়ি, কমছে আমদানি

Printed Edition

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

রাজস্ব ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণা ঠেকাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে সন্দেহজনক পণ্য চালান শতভাগ পরীক্ষাসহ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এতে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য শনাক্ত করে রাজস্ব ফাঁকি উদ্ধারের পাশাপাশি আমদানি পণ্য খালাসে সময় বাড়ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। তাদের দাবি, রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি বৈধ আমদানিকারকদের হয়রানি বন্ধেও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়। এ সময়ে বিভিন্ন অভিযানে মিথ্যা ঘোষণা ও ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানির ১৪টি চালান আটক করা হয়। এসব ঘটনায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি শনাক্ত হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে চারটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী বৈধ পণ্যচালান দ্রুত খালাসের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সাথে শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা ঠেকাতে সন্দেহজনক চালান শতভাগ পরীক্ষা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান, জয়েন্ট কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা এবং আইআরএম টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার তওফিকুর রহমানের তদারকিতে বেশ কিছু অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি চালান পরীক্ষা ও খালাসে তিন-চার দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি বলেন, আইআরএম টিমের পরীক্ষাধীন চালানগুলো শতভাগ কায়িক পরীক্ষার পর খালাস দেওয়া হচ্ছে। এতে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু গণমাধ্যমকর্মীর চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মকর্তাদের জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কড়াকড়ির প্রভাব পড়েছে আমদানিতেও। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ পরিমাণ এক লাখ ২৯ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন কম।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। বছর শেষে আদায় হয়েছে ছয় হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা; ঘাটতি চার হাজার ৭৩১ কোটি টাকা; অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে বেনাপোল দিয়ে আমদানি প্রায় এক লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিকটন কমেছে।