আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট
ব্রিটিশ আমলের লালমনিরহাটে রেলের ইঞ্জিন ও কোচ ঘোরানোর টার্নটেবিলটি প্রায় তিন দশক আগে পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। নতুন করে তার পাশে দেশের প্রথম ‘অটোমেটিক টার্নটেবিল’ উদ্বোধনের পরদিন থেকেই বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, দেশে একসময় ১২টি টার্নটেবিল ছিল। যেগুলোর সবই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। এর মধ্যে লালমনিরহাটে থাকা একটি টার্নটেবিল প্রায় ৩০ বছর আগে বিকল হয়ে যায়। তাই এই রেল বিভাগে এখনো ইঞ্জিন ও কোচ ঘোরানোর নিজস্ব ব্যবস্থা নেই। প্রতি দুই থেকে তিন মাস পরপর ইঞ্জিন ও কোচগুলো ঢাকায় নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের টার্নটেবিলে ঘুরিয়ে আবার লালমনিরহাটে আনতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে অর্থও। ফলে লালমনিরহাটে প্রথমবারের মতো দেশে অটোমেটিক টার্নটেবিল নির্মাণ করা হয়। আগের টার্নটেবিলগুলো ব্রিটিশ আমলের, বিদেশ থেকে আনা। নতুন অটোমেটিক টার্নটেবিল নির্মাণ চালু হলে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে লালমনিরহাটের টার্নটেবিলটি পুরোপুরি বিকল হয়ে যায়। অটোমেটিক টার্নটেবিল নির্মাণে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর রেলওয়ে থেকে অনুমোদন দেয়া হয়। তৎকালীন বিভাগীয় রেলওয়ে দফতরের প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) মো: তাসরুজ্জামানের (বাবু) নকশা ও প্রযুক্তিতে লালমনিরহাট রেলস্টেশনের আধা কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সিকলাইন এলাকায় ৯ শতক জমির ওপর নির্মিত অটোমেটিক টার্নটেবিলটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় মার্চ মাসে। এতে ব্যয় হয়েছে ২৫ লাখ টাকা।
পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর ২০২৫ সালের ২৬ মে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু পরদিনই অটোমেশন ব্যবস্থায় ত্রুটি ধরা পড়ে। এর পর থেকে এটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি। এই অটোমেটিক টার্নটেবিলটি নির্মাণ করেছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের সাবেক বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী তাসরুজ্জামান বাবু। এর জন্য তিনি ২০২৪ সালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক’ সম্মাননাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছেন।
লোকোমাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, টার্নটেবিলটি চালু থাকলে ইঞ্জিন ও কোচ ঘোরানোর জন্য আমাদের কমলাপুরে যেতে হতো না। ইঞ্জিনের ক্যাব সাইড সব সময় সামনে থাকলে আমরা রেললাইন ও সিগন্যাল আরো ভালোভাবে দেখতে পারি। অটোমেটিক টার্নটেবিলটি বর্তমান নানান সমস্যা জর্জরিত। লালমনিরহাট রেলওয়ের বর্তমান বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ধীমান ভৌমিক বলেন, সমস্যা হচ্ছে, এটি ভারী ইঞ্জিনের ওজন বহন করতে পারছে না। একটি ইঞ্জিনের ওজন সাধারণত ৭০ থেকে ৯০ টন এবং কোচের ওজন ২০ থেকে ৩০ টন হয়। বর্তমান টার্নটেবিলটি ইঞ্জিনের পূর্ণ ভার নিতে পারছে না। তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই এটি বন্ধ রাখা হয়েছে। টার্নটেবিলটি আরো শক্তিশালী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খান বলেন, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে টার্নটেবিলটি বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে কমলাপুর স্টেশনে ইঞ্জিন ও কোচ ঘুরিয়ে আনতে রেলওয়ের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে। তাই টার্নটেবিলটি চালু করা জরুরি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



