ইবিতে শিবির-ছাত্রদল উত্তেজনা

অস্ত্র হাতে ছাত্রদল যুবদলের মহড়া

Printed Edition
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের উত্তেজনার মধ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়  : নয়া দিগন্ত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের উত্তেজনার মধ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায় : নয়া দিগন্ত

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলকর্মীর চড় মারাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে জিয়া হলে বিক্ষোভ করেন শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা। প্রক্টরের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভাঙার ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে বহিরাগতদের নিয়ে জড়ো হয়ে প্রধান ফটকে তালা দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় লাঠি, চাপাতি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে দেখা যায় তাদের।

শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী আলীনুর রহমান ও ভুক্তভোগী দাওয়াহ বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী ও শিবিরের হল শাখার সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের।

জানা যায়, খাওয়া-দাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী শিবির নেতা জিয়া হলে প্রবেশ করছিলেন। হলের গেট দিয়ে একা ভেতরে ঢুকে সিঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ পাশ থেকে এসে তাকে চড় মারেন আলীনুর রহমান।

এ দিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা জিয়া হলে এসে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তারা আলীনুরের কক্ষের দিকে যেতে থাকেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আলীনুর ভেতর থেকে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হলে এলে শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা হলের প্রভোস্টের কক্ষে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সেখানে ভুক্তভোগীর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিম রেজা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে প্রভোস্ট কক্ষে মীমাংসার চেষ্টা চলাকালে ভুক্তভোগী জুহায়ের বলেন, অভিযুক্তের উপস্থিতি ছাড়া তিনি কোনো মীমাংসা মানবেন না। এতে ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ ও ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি অভিযুক্তকে আনতে তার কক্ষে যান। তবে কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তাকে বের করে আনতে পারেননি তারা।

পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রক্টর পুলিশি পাহারায় অভিযুক্ত আলীনুরকে হল থেকে বের করে আনেন।

ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে বহিরাগতদের নিয়ে জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এক পর্যায়ে নেতাকর্মীরা প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে বিকেল ৪টার নির্ধারিত বাস আটকে পড়ে।

এ সময় প্রকাশ্যে লাঠি, চাপাতি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রধান ফটক থেকে ঝালচত্বর পর্যন্ত মহড়া দিয়ে তারা পুনরায় প্রধান ফটকে এসে জড়ো হন। সেখানে অবস্থান করে স্লোগান ও বক্তব্য দেন। পরে প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়া হয়।

এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় স্থানীয় এক জামায়াতকর্মীকে উদ্দেশ্য করে ধাওয়া করলে সেখানে উপস্থিত জামায়াতের নেতাকর্মীরা প্রতিহতের চেষ্টা করেন। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিবির নেতা জুহায়ের বলেন, মূলত খাওয়া-দাওয়ার উদ্দেশ্যে আমি হলের ভিতরে প্রবেশ করি। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। সিঁড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ করে পাশ থেকে আলীনুর এসে আমাকে চড় মারে। পূর্বে তার সাথে আমার কোনো বিরোধও ছিল না।

অভিযুক্ত ছাত্রদলকর্মী আলীনুর বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেন। এ সময় আমি তাকে থাপ্পড় দিই। তবে তার সাথে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিল না।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ঘটনার প্রথম সূত্রপাত ছাত্রদলকর্মী আলীনুরের হাত ধরে হয়। তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছি। তবে আমরা এখন পর্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। এখন প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসেছি।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে আমরা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টাসহ শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে বসি। কিন্তু শিবিরের পক্ষ থেকে সমাধানের পথে না গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়। এক পর্যায়ে হলের বাইরে আমাদের সদস্যসচিবকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধানের চেষ্টা করছি।