ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের বিজ্ঞান ইউনিটে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। সাধারণ ভর্তি ও ডিনস কমিটির সম্মতির পর বিষয়টি এখন অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদনের অপেক্ষায়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক।
গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দুই প্রোভিসি, ট্রেজারার, ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপকরাসহ প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। গত ২ আগস্ট ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের সময়সূচি ঘোষণার দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম বিবেচনা করে পৃথক প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নীতিমালা তৈরি হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম জানান, ভিন্ন শিক্ষাক্রমের কারণে বৈষম্য দূর করতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের পর সাধারণ ভর্তি কমিটিতে নীতিমালার বিষয়ে আলোচনার শেষে চলতি মাসের শেষের দিকে সিন্ডিকেটের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
শিক্ষকদের আপত্তির কারণ
অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষক এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, ভর্তি পরীক্ষায় সব শিক্ষার্থীর জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্র থাকা উচিত, না হলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হতে পারে। বিজ্ঞান অনুষদের এক অধ্যাপক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পৃথক প্রশ্নপত্র হলে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। সভায় কয়েকজন শিক্ষক ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিলেও একতরফাভাবে সিদ্ধান্তটি পাস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জীববিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান জানান, তাদের অনুষদ এই আলাদা প্রশ্নপত্রের পক্ষে ছিল না এবং সভায় তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। আরেকটি ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপক বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্ন করা হলে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই দাবি উঠতে পারে। তবে ভিন্নমত পোষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে আগে থেকেই ইংরেজি মাধ্যমের জন্য আলাদা প্রশ্নপত্রের ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই বিজ্ঞান ইউনিটেও এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



