নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের শুক্রবারের বুলেটিন অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৮৬১ জনের মৃত্যু হলো। আর ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। এ দিকে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচ হাজার ১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
হামের তথ্য দিতে শুরু করার পর প্রথম ৩০ দিন পর ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল আড়াই হাজারের কিছু বেশি। সে তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৪৮ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯২, চট্টগ্রামে ৬৪, বরিশালে ৫১, ময়মনসিংহে ৭৪, খুলনায় ৩৩ ও রংপুর বিভাগে ১৪ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১০০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৩৬ জন। ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ২৪৯, রাজশাহীতে ২৯, সিলেটে ১২৮, চট্টগ্রামে ২৭১, বরিশালে ১২৬, ময়মনসিংহে ৬১, খুলনায় ৫৫ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জন। এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৩৫ হাজার ৪৭৩ জন। এর মধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার ৪৫৭ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। আর দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৯২। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৯৬।
সিলেটে হামে মৃত্যুর মিছিল থামছে না
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন ১০ জন, আর সন্দেহজনক হাম বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪১ জনের।
শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৩৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। ফলে একদিকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্য দিকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায়ও চাপ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১৮ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৯ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৩৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪০ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১০ জন, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে চারজন, পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৪ জন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে আটজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এক দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী তিন শিশুর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে দুই ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন মারা যান। শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মারা যাওয়া পাঁচ মাস বয়সী উদ্ভব বিশ্বাস সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ও ১১ মাস বয়সী হুমায়রা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা এবং ওসমানী হাসপাতালে মারা যাওয়া ৯ মাস বয়সী শিশু আদিল সিলেটের টুকের বাজারের বাসিন্দা।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, এখন পর্যন্ত সিলেটে ৫৯ জন, হবিগঞ্জে ২০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৯ জন মারা গেছেন। ফলে মৃত্যুর সংখ্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে। মৃত ১৫১ জনের মধ্যে ১৪১ জন সন্দেহজনক হাম বা উপসর্গ নিয়ে এবং ১০ জন নিশ্চিত হাম রোগে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার একজনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে হাজারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। তবে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব আরো বড় উদ্বেগ তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ধারাবাহিক পরিসংখ্যান বলছে, সিলেট বিভাগে হাম পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে আসার পাশাপাশি তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাম মোকাবেলায় আরো কার্যকর প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।



