বদলগাছীর কৃষিজমি গ্রাস করছে অবৈধ ২১ ইটভাটা

Printed Edition

হাফিজার রহমান বদলগাছী (নওগাঁ)

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার দখলে চলে যাচ্ছে কৃষিজমি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ২১টি ইটভাটার কারণে তিন ফসলি জমির বড় একটি অংশ এরইমধ্যে হারিয়ে গেছে। কৃষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার কারণে এক দিকে যেমন কমছে- আবাদি জমি, অন্য দিকে বিষাক্ত ধোঁয়ায় তিগ্রস্ত হচ্ছে আশপাশের ফসল ও পরিবেশ।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে এর মধ্যেই প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ২১টি ইটভাটার মধ্যে বর্তমানে ১৭টি চালু রয়েছে, আর চারটি বন্ধ অবস্থায় আছে। অধিকাংশ ভাটাই কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করে ইট পোড়াচ্ছে।

চাপাই নগর মৌজার নাহার ব্রিকসের মালিক নাহিদ হোসেন বলেন, তিনি বছরে প্রতি বিঘা ২৫ হাজার টাকা হারে প্রায় ২২ একর জমি ভাড়া নিয়ে ইটভাটা পরিচালনা করছেন। মিঠাপুর ইউনিয়নের রুকিন্দিপুর মৌজার এবি এ ব্রিকসের মালিক মাসুম আলী জানান, তার নিজের কিছু জমি রয়েছে, আর কিছু ভাড়া নেয়া। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ বিঘা জমির ওপর ভাটা পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে আশপাশের ফসল মারাত্মকভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছে। পটোল, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ফলন কমে যাচ্ছে। অনেক েেত্র গাছের পাতা ঝলসে যাচ্ছে। পাশাপাশি নারিকেল, আম ও কাঁঠালের মতো ফলদ গাছেও ফলন কমে গেছে।

উপজেলার বেশির ভাগ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র কিংবা জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স নেই। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য অনেক আগে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের পরিদর্শক মকবুল হোসেন বলেন, ভাটা মালিকদের করা আবেদনটি উচ্চ আদালতে প্রক্রিয়াধীন থাকায় বিষয়টি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবাব ফারহান বলেন, দুই ও তিন ফসলি জমিতে ইটভাটা গড়ে ওঠায় কৃষিজমি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।