ক্রীড়া ডেস্ক
আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ বাংলাদেশ না খেললে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিসিবির আয়ের ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ অর্থ আসে আইসিসি থেকে। এই আসরে অংশগ্রহণ না করলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কেমন ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই তার একটি ধারণা দিয়েছে।
এবার টি-২০ বিশ্বকাপে না খেললে প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকা আয়ের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। পাশাপাশি সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকে পাওয়া আয়ের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অর্থাৎ একটি সিদ্ধান্তে বিসিবির বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
অংশগ্রহণ ফি
এবারের বিশ্বকাপে শুধু অংশ নিলেই প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা পাবে। এ ছাড়া গ্রুপ পর্বে ও সুপার এইটে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার, পঞ্চম থেকে ১২তম স্থানীয় প্রতিটি দল সাড়ে ৪ লাখ ডলার, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দল ৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার, রানার্সআপ ১৬ লাখ ডলার এবং চ্যাম্পিয়ন দল ৩০ লাখ ডলার প্রাইজমানি পাবে। এর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ও ব্যক্তিগত আয়ের সুযোগ তো রয়েছেই।
জরিমানা প্রদান
বিশ্বকাপে না খেলার গ্রহণযোগ্য কারণ বাংলাদেশ যদি আইসিসির কাছে তুলে ধরতে না পারে তা হলে বিসিবিকে প্রায় ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা দেয়া লাগতে পারে।
সম্প্রচারকদের ক্ষতি
এ আসরে বাংলাদেশ অংশ না নিলে টুর্নামেন্টটির অফিসিয়াল সম্প্রচারক টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস প্রায় ৩০০ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি
এ বছর সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। ভারত খেলতে না এলে আয়ের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট।
ভবিষ্যৎ রাজস্ব
২০২৮ সাল থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য রাজস্ব বণ্টন নীতিতে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমানো হতে পারে। আগামী বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব খেলে মূল পর্বে ওঠার পরীক্ষা দিতে হতে পারে। তবে আর্থিক ক্ষতি যাই হোক না কেন ভারত বা আইসিসির কোনো অন্যায় আবদারের কাছে মাথা নত করবে না বাংলাদেশ। কারণ দেশের সম্মান ও মর্যাদার মূল্য কখনো অর্থ দিয়ে বিচার করা যায় না।



