নরসিংদীতে বালু ব্যবসায়ীর কান কামড়ে দিলেন বিএনপি নেতা

চাইলেন ৫ লাখ টাকা চাঁদা

Printed Edition

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর পলাশে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহতের পাশাপাশি কামড় দিয়ে কান যখমের অভিযোগ উঠেছে মহিউদ্দিন চিশতিয়া নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বাংলাদেশ জুটমিলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত মহিউদ্দিন চিশতিয়া ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক। আহত সাখাওয়াত হোসেন গাজীপুরের কালীগঞ্জে ফিরোজ আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার কানে চারটি সেলাইসহ শরীরের বেশ কিছু স্থানে জখম রয়েছে।

তিনি জানান, ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের ভিতরে টিকে গ্রুপের নির্মাণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বালু ভরাটের কাজে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করি। বিকেলে ড্রেজার মেশিনের শ্রমিকদের বেতন দিয়ে ফেরার পথে চার ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে আমাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনের বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ এক ঘণ্টা আটকে রেখে মহিউদ্দিনসহ আরো ৬/৭ জন আমাকে কিল-ঘুষি ও চড়থাপ্পড় মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই বিএনপি নেতা কেন তাকে না জানিয়ে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসালাম বলেই ডান কানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত করে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ড্রেজার বসানোর জন্য মহিউদ্দিন আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং দ্রুত ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে চিকিৎসা নেই।

এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে তিনি বলেন, আমি একটি দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরবর্তীতে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব।

পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সাখাওয়াত হোসেন নামে একজন রোগী আসে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখমের চিহ্ন রয়েছে, কানে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। তিনি এখন আমাদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

আর পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-মামুন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন বাদি হয়ে মহিউদ্দিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।