ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড

ভারতে গ্রেফতারদের ফেরত আনতে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাইযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার ঘটনায় ভারতে গ্রেফতার তিনজনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সকাল ৭টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মন্ত্রী বলেন, তাদের ফেরাতে (ভারতে গ্রেফতারকৃতরা) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ অনুরোধপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা প্রেরণ করেছি। যাতে এক্সট্রাডিশন চুক্তি (বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুসারে সেই সব আসামিকে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সাথে যারা অভিযুক্ত তাদের ব্যাপারে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। একবার চার্জশিট দেয়া হয়েছিল। সম্ভবত নারাজি দেয়ার কারণে পুনরায় তদন্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতে প্রথমে দুইজন পরে আরেকজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে তাদের দেশের নিজস্ব পুলিশ ফোর্স। সেখানে আমাদের দূতাবাসকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডিপ্লোম্যাটিক চ্যানেলে আমরা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি, যাতে গ্রেফতার আসামিদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হয়।

তিনি বলেন, এখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা হচ্ছে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ আমাদের অনুরোধপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠিয়েছি, যাতে এক্সট্রাডিশন চুক্তি (বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি) অনুসারে সেই সব আসামিকে আইনমাফিক বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাথে পুলিশ সংস্কারসহ যে সব বিষয়ে কথা বলেছেন সে ব্যাপারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আরো সমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত রাষ্ট্রের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাথে গতকাল (বুধবার) এ বিষয়ে ফলপ্রসূ কথা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনেই প্রথম গণহত্যা শুরু হয়েছিল এবং এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান এই গণহত্যার খবর পেয়েই চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন। একেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার ‘প্রকৃত ইতিহাস’ বলে অভিহিত করেন। শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যদের রক্তদানই স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণার সূচনা।

দীর্ঘ কয়েক বছর পর পুনরায় স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ শুরু হওয়াকে তিনি আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শহীদদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী দেশে নতুনভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকবে।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সরওয়ারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।