খেজুরের কাঁচা রসে ভয়ঙ্কর নিপাহ ভাইরাস

বাদুড় ছাড়াও চাটে সাপ ইঁদুর ও কাঠবিড়ালী

সংক্রমিতদের শতভাগেরই মৃত্যু হচ্ছে। আগে ভরা শীতে সংক্রমণ ঘটতো। কিন্তু ২০২৫ সালে আগস্টের গরমেও সিজনের বাইরেও একজনকে পাওয়া গেছে সংক্রমিত হতে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঢাকা থেকে সংক্রমণ এলাকা আগে অনেকটা দূরে ছিল কিন্তু এখন ঢাকার আশপাশ নরসিংদী, গাজীপুর পর্যন্ত মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

খেজুরের কাঁচা রসে ভয়ঙ্কর নিপাহ ভাইরাস। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভাইরাসের একটি। সংক্রমিতদের শতভাগেরই মৃত্যু হচ্ছে। আগে ভরা শীতে সংক্রমণ ঘটতো। কিন্তু ২০২৫ সালে আগস্টের গরমেও সিজনের বাইরেও একজনকে পাওয়া গেছে সংক্রমিত হতে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঢাকা থেকে সংক্রমণ এলাকা আগে অনেকটা দূরে ছিল কিন্তু এখন ঢাকার আশপাশ নরসিংদী, গাজীপুর পর্যন্ত মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়াতে প্রথম নিপাহ শনাক্ত হলেও সেখানে এখন আর সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে না। কিন্তু বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম কেসটি শনাক্ত হলেও ধীরে ধীরে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রধানত খেজুরের কাঁচা রস পান থেকেই বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে। বাদুড় নিপাহ ভাইরাস বহন করে কিন্তু নিজের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় না। মানুষের মধ্যে আসে বাদুড়ের লালা ও প্রশ্রাব থেকে। বাদুড় খেজুর গাছের যেখান থেকে রস বের হয় সেখানে বসে জিহ্বা দিয়ে চেটে পান করে এবং তখন প্রশ্রাবও করে। ফলে খেজুরের রসে বাদুড়ের লালা এবং প্রশ্রাবে থাকা নিপাহ ভাইরাস নিচে পাত্রে গিয়ে জমা হয়। কেউ এই কাঁচা রস পান করলে নিশ্চিতভাবে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাহমিনা শিরিন বলেন, ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৪৭ জন ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়। এর মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে অর্থাৎ সংক্রমিতদের ৭২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই বছর থেকে সংক্রমিতদের শতভাগ মৃত্যু হচ্ছে। কাঁচা খেজুর রস ছাড়াও গাছের নিচে পড়ে থাকা অর্ধ খাওয়া ফল খেয়েও নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। সে কারণে কাঁচা খেজুর রস ছাড়াও অর্ধ খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না।

ড. তাহমিনা শিরিন বলেন, খেজুরের কাঁচা রস পান করে নিপাহ হলেও মানুষের মধ্যে খেজুর রস পানের উৎসব চলছে। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, শত শত বছর যাবত এ দেশের মানুষ কাঁচা খেজুর রস পান করে আসছে, আগে তো কোনো রোগ হয়নি, এখন কেন হবে? এ ব্যাপারে তাহমিনা শিরিন বলেন, আগে হয়তো বাদুড়ের দেহে এই ভাইরাসটি ছিল কিন্তু তখন বাদুড় খাবারের খোঁজে মানুষের কাছাকাছি খেজুর গাছের রস পান করতে আসেনি, গভীর জঙ্গলেই ওদের খাবার ছিল। এখন গভীর জঙ্গল কমে যাওয়ায় বাদুড় চলে এসেছে লোকালয়ে।

তিনি বলেন, কাঁচা খেজুর রস পান করতে শুধু যে বাদুড় আসে তাই নয়, সাপ, ইঁদুর, কাঠ বিড়ালী আসার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। আপনি যে রস পান করছেন সেখানে সাপ চেটে গেলে আর সেটা যদি আপনি দেখেন, সেটা কি আপনি পান করবেন? দেখেন না বলেই আপনার কাছে মনে হয় খুবই ফ্রেস রস, পান করলে কী সমস্যা? রস উত্তমরূপে ফুটিয়ে পান করুন, তাতে ভাইরাস থাকবে না।

ড. তাহমিনা শিরিন বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বাংলাদেশের স্ট্রেইনটা খুবই মারাত্মক। ভাইরাসটি মানুষের রক্তে মিশে গেলে তা মস্তিষ্কে চলে যায় এবং কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তখন জ্বর, সর্দি-কাশি হয়। এক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি আবোল-তাবোল বকতে থাকে। সংক্রমিত রোগীকে যারা সেবা দেয় তাদেরও এ রোগ হতে পারে।

নিপাহ হয়েছে কি না এর পরীক্ষা শুধুমাত্র আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবিতে করা হয়। অন্য কোথাও হয় না। এটাও খুবই ব্যয়বহুল একটি পরীক্ষা।