সংসদ প্রতিবেদক
২০২৭ সালে পবিত্র হজের বিমান ভাড়া এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেছেন, আমরা সব সময় দেখি সময়ের সাথে ভাড়া বাড়ে। কিন্তু আমরা বিমান ভাড়া গত বছরের থেকে কমাতে সক্ষম হয়েছি। এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালে বিমান ভাড়ার পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। ২০২৩ সালে নেয়া অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্ত হওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি এর সাথে জড়িতদের বিচারের আহ্বান জানান।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে ২০২৩ সালে এক লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা বিমান ভাড়া নেয়া হয়েছিল। এই টাকাগুলো কী করেছে, কোথায় গেছে- এগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত, বিচার হওয়া উচিত। কারণ ইতিহাস কী বলে? ভাড়া কখনো কমে না, ভাড়া বাড়ে। কিন্তু এই সরকার প্রমাণ করেছে, হাজীদের জন্য ভাড়া কমে।
কমেছে হজের খরচ
২০২৭ সালের হজের জন্য দু’টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্যাকেজ-১-এর আওতায় ২০২৬ সালে খাবার ছাড়া খরচ ছিল ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার খাবারের মূল্য বাবদ ৪৯ হাজার ১৩৬ টাকা প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাবারের খরচসহ হিসাব করলেও গতবারের তুলনায় কম মূল্যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোথাও এত কম মূল্যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়নি।’
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে হজ প্যাকেজ-২-এর খরচ ছিল পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, যাতে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় ৫৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। এবার খাবারের মূল্য বাবদ ২৯ হাজার টাকা প্যাকেজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, আল্লাহর মেহমান হাজীদের সেবা করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র ব্রত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা এবং নিবিড় মনিটরিংয়ের কারণেই ২০২৬ সালের হজ অত্যন্ত সফল, সুন্দর ও সাবলীলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে প্রতিটি প্যাকেজের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। খাতভিত্তিক হিসাব শেষে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ইএফটির মাধ্যমে চার হাজার ৩৪১ জন হাজীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
প্যাকেজভিত্তিক অর্থ ফেরতের বিস্তারিত চিত্র সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ-১ এর (খাবার খরচ ছাড়া মূল্য ছিল ছয় লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা) পূর্ণাঙ্গ ও শর্ট প্যাকেজের হাজীদের যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা এবং ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
এছাড়া এই প্যাকেজে সিট আপগ্রেডেশন অনুযায়ী হাজীদের সর্বোচ্চ এক লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেয়া হয়েছে।
একইভাবে প্যাকেজ-২ এর হাজীদের জনপ্রতি সর্বনি¤œ দুই হাজার ৫০৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ এর পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের হাজীদের জনপ্রতি তিন হাজার ৭১৮ টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।
আগামী হজের খরচ কমানোর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সফলতার ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের হজের খরচ সাধারণ মানুষের জন্য আরো সাশ্রয়ী করতে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী বছর (২০২৭) দু’টি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ আগের বছরের (২০২৬) তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমিয়ে ছয় লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ-২ এর খরচ ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমিয়ে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী হজের জন্য দোয়া চাইলেন ধর্মমন্ত্রী
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমে মহান সংসদে সবার কাছে দোয়া চাই- আগামী দিনের হজ যেন আরো সুন্দর, সুষ্ঠু এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা করতে পারি। এই তৌফিক আল্লাহপাক আমাদের দান করুন।’



