কাজ না করে ২৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বহাল তবিয়তে

ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
Printed Edition

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের পিরোজপুর জেলায় কাজ না করে ৩৫শত কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনার অন্যতম হোতা মো: ফুলকাম বাদশা নরসিংদীর নির্বাহী প্রকৌশলী পদে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ৩০ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত ফুলকাম বাদশা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্নির্মাণ/পুনর্বাসন প্রকল্পের (আইবিআরপি) নির্বাহী প্রকৌশলী ও ২০২৩ সালে ৩ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় প্রকল্পের কাজ না করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পিরোজপুর জেলার শুধুমাত্র ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি প্যাকেজসহ মোট ১২৮টি প্যাকেজের কোনো কাজ না করে মিথ্যা বিলের মাধ্যমে সর্বমোট দুইশত পঁয়ত্রিশ কোটি ঊননব্বই লাখ ১৮ হাজার তিনশত টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত মো: ফুলকাম বাদশাকে আওয়ামী লীগ সরকার করেছিলেন পুরস্কৃত, দিয়েছিলেন এলজিইডি নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন। ২৬ মে ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার মোঃ ফুলকাম বাদশাকে পুরস্কার হিসেবে নরসিংদীতে পদায়ন দেয়। সরকার পতন হলেও কালো টাকার ক্ষমতা এতই শক্তিশালী যে, গত ৫ মে ২০২৬ তারিখ ৪৬.০২.০০০০.০০১.৯৯.০২৪.২৪-৬৬৯৬ স্মারকে হুমায়ুন কবিরকে নরসিংদী বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে পারেনি, নরসিংদীর এক মন্ত্রীর তদবিরে বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন দুর্নীতিবাজ ফুলকাম বাদশা।

মো: ফুলকাম বাদশা বদলির আদেশ বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলার কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে। এমন অবস্থায় আওয়মী লীগের আমলে সুবিধাভোগী ফুলকাম বাদশার বদলির আদেশ স্থগিত হয়। অভিযোগ উঠেছে ফুলকাম বাদশাকে বেশ মোটা অঙ্ক খরচ করতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ থাকায়ও বিগত ইউনূস সরকারের আমলে দাপটের সাথে চলেছেন। তবে সম্প্রতি সুকৌশলে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীদের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে নিজের আধিপত্যের জানান দিচ্ছেন, যেমনটা ফ্যাসিস্ট আমলেও দিয়েছিলেন।

এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ফুলকাম বাদশা ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আস্থাভাজন মানুষ। শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও ভোলার পলাতক এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সাথে ঘনিষ্ঠতাই ছিল তার এই দাপটের মূল কারণ। এ ছাড়া পিরোজপুরের পলাতক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের দাপটে তিনি কাজ না করে কেবল কাগজ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার পরিচালিত প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। গত ১১ মে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুর জেলার উদাহরণ টেনে বলেন, একটি মিনিস্ট্রি (এলজিআরডি) থেকে কাজ না করে কেবল কাগজ দেখিয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার হদিস নেই। এরপরও ফুলকাম বাদশা নরসিংদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার প্রধান হিসেবে থাকার বিষয়টা নিয়ে প্রশাসনে চলছে অস্থিরতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, অতীতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্য টাকার বিনিময়ে পরিবর্তন করে দুদকের চলমান তদন্তের বিষয় গোপন করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব তথ্যও এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দুদকের চলমান তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই ফুলকাম বাদশাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ২৬ মে ২০২৪ সালে নরসিংদী জেলার দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করেন ফ্যাসিস্ট সরকার। এর পরও দাপটের সাথে স্বপদে থাকায় এখন জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো: ফুলকাম বাদশার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বদলি আদেশ স্থগিত হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো: বেলাল হোসেন।