স্বপ্ন পূরণ হলো না সিলেটের ২৪ যুবকের ভূমধ্যসাগরে ৯ জনের মৃত্যু

Printed Edition

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট

ইউরোপে যাওয়ার আশায় মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়া সিলেট বিভাগের ২৪ যুবকসহ ২৯ বাংলাদেশীর যাত্রা শেষ হয়েছে মিসরের উপকূলে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর অসুস্থ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মিসরের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে ২৭ জন পুলিশ হেফাজতে একটি অস্থায়ী কারাগারে রয়েছেন। অপর দু’জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৮ জন, হবিগঞ্জের তিনজন, সিলেটের তিনজন, কিশোরগঞ্জের দুইজন এবং মাদারীপুরের একজন রয়েছেন। মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, নৌকাটিতে থাকা আরো ৯ বাংলাদেশী নাগরিক সাগরে মারা গেছেন বলে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে সহযাত্রীদের একজন জানিয়েছেন।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন বাংলাদেশীসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ১৩ আগস্ট মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায় নৌকাটি। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।

মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) জাকির হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া ২৯ বাংলাদেশীর মধ্যে ২৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন। তারা বর্তমানে মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সাথে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে আটক রয়েছেন। অপর দু’জন মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনি জানান, নৌকাটি থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দু’টি পরিচয়পত্র এবং হৃদয় পাল, হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় পুলিশ দূতাবাসকে জানিয়েছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরো ৯ বাংলাদেশী সাগরে মারা গেছেন। তাদের পরিচয় ও গ্রামের ঠিকানা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জাকির হোসেন বলেন, মিসরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক বাংলাদেশীদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। একই সাথে মর্গে থাকা লাশগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থাও নেয়া হবে।