টানা বর্ষণে কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা

নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

Printed Edition
নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

টানা ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোর থেকে মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ওপর। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। কয়েকজনকে নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে দেখা যায়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়।

পরীক্ষার্থী তাছলিমা আক্তার বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ভিজে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। অনেক পরীক্ষার্থী ভেজা কাপড়েই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং জলাবদ্ধ সড়কে কয়েকজনকে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার জানান, এ কেন্দ্রে আটটি কলেজের প্রায় দুই হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। মাঠে পানি জমলেও পরীক্ষার কক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বিলম্বে পৌঁছানো পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভারী বর্ষণে কেন্দ্রের সামনে ও আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কোনো পরীক্ষাকক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। বিলম্বে আসা পরীক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে কেন্দ্রসংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে তিনি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশ নিশ্চিত করার কার্যক্রম তদারকি করেন।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ স্বল্পসময়ের বৃষ্টিপাত।