আগৈলঝাড়ায় হাত দিয়েই তোলা যাচ্ছে কার্পেটিং

সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার

Printed Edition

জহুরুল ইসলাম জহির গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে নি¤œমানের কাজ, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই কাজ করায় সড়কের কার্পেটিং হাতের স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহিলাড়া-আম্বুলা-ছয়গ্রাম-পয়সারহাট ভায়া বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়ি এলাকার ৫৪০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে বরিশাল এলজিইডি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং ওই বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে সর্বনি¤œ দরদাতা হিসেবে বাবুগঞ্জ উপজেলার মো: আসাদুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরদার ট্রেডিং কার্যাদেশ পায়। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হলেও চলতি বছরের জুন মাসে এসে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্মাণকাজে নি¤œমানের ইট, পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে। বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের আগে সড়ক পরিষ্কার করা হয়নি, এমনকি ধুলা-ময়লার ওপরই বিটুমিন ও কার্পেটিং দেয়া হয়েছে। তাদের দাবি, কোথাও কোথাও পিচের প্রলেপ না দিয়েই কার্পেটিং করা হয়েছে। ফলে কাজের মান এতটাই নি¤œমানের যে হাত দিলেই কার্পেটিং উঠে আসছে।

তারা আরো অভিযোগ করেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঠিকাদারের লোকজন তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। তাদের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেছে বলেই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের কার্পেটিং নষ্ট হতে শুরু করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সুবিধাভোগী অভিযোগ করেন, উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতেই নি¤œমানের কাজ হয়েছে। তার যোগসাজশে প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরদার ট্রেডিংয়ের মালিক মো: আসাদুজ্জামান বলেন, তার লাইসেন্সে কাজটি হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলার দলিল লেখক মো: জাকির মোল্লা।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী হিসেবে অভিযুক্ত জাকির মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এক ট্রাক পাথর ও বিটুমিন নিয়ে আসার পর বৃষ্টি শুরু হয়। আমি বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিং করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে শ্রমিকরা কাজ চালিয়ে যান। ফলে এ সমস্যা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বশীল হলে দেশের উন্নয়ন আরো ভালো হতো। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগসাজশেই নি¤œমানের কাজ করা হয়েছে। এ কারণেই নতুন সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের কাছে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাজ শুরু করিয়ে স্থান ত্যাগ করেছি। পরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। যেখানে নি¤œমানের কাজ হয়েছে বা কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, সেখানে আবার কার্পেটিং করা হবে।

উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরিশাল এলজিইডির বিভাগীয় কর্মকর্তারা সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এখনো ঠিকাদারকে কোনো বিল দেয়া হয়নি। ত্রুটিযুক্ত অংশ আবার মানসম্মতভাবে নির্মাণ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।