ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভোজিনহার কাছে এ যেন বিশ্বকাপের চেয়েও বড়। চেয়েছিলেন মাকে গ্যালারিতে বসে দেখাবেন। আর্থিক অসঙ্গতির কারণে পারেননি। তা খেলা গ্যালারিতে বসে দেখতে পারেননি মা। তাই তো ইতিহাসের পাতায় নাম লিখালো কেপ ভার্দের গোলকিপার ম্যাচসেরা হওয়ার পর কান্না লুকাতে পাারেননি। সেই সাথে অস্ফুট স্বরে জানিয়ে দিয়েছেন মাকে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখাতে পারেননি। তার এই মানসিক বেদনা এবং তার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী রোববার মিয়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচের আগেই এই ফুটবলারের মা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবেন এবং দ্বিতীয় ম্যাচটি মাঠে বসে সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন। মাঠের লড়াইয়ে মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশ কেপ ভার্দে শক্তিশালী স্প্যানিশ আক্রমণভাগকে পুরো ৯০ মিনিট রুখে দিয়ে অবিশ্বাস্য ড্রয়ের পর এবার খোদ মার্কিন সরকারের সহায়তায় ভোজিনহার মায়ের গ্যালারিতে বসার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
রাতারাতি বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের চোখে এখন নতুন নায়ক কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বিশ্বসেরা স্পেনের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করে, অবিশ্বাস্য সাতটি সেভ দিয়ে ১-১ গোলে ম্যাচ ড্র করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় চমক দেখিয়েছেন। তবে মাঠের এই রূপকথার সমান্তরালে মাঠের বাইরে এখন আলোচনায় এই তারকার মা। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ছেলের এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা গ্যালারিতে বসে দেখার তীব্র ইচ্ছা তার। পাশে দাঁড়িয়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট)। পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফুটবলারের মায়ের ভিসা আবেদনের কোনো পূর্ব রেকর্ড বা নথিপত্র তাদের কাছে নেই। এর মূল কারণ ভোজিনহার মায়ের বর্তমানে কোনো সচল পাসপোর্টই নেই এবং তিনি এখন একটি নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পাসপোর্ট জটিলতা থাকলেও ভোজিনহার মায়ের এই স্বপ্নপূরণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজ থেকেই সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।
ভোজিনহার মায়ের এই বিশেষ পরিস্থিতির কথা জানতে পেরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বিভাগ বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এক বিবৃতিতে তারা জানান, ‘খেলোয়াড়দের পরিবারের সব সদস্যই ভিসা বন্ড মওকুফের সুবিধা পাবেন। ’



