আতিকুর রহমান ঝালকাঠি থেকে
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় চার কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দে দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ােভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশ এবং তদারকির ঘাটতির কারণে প্রকল্পগুলো অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর উপজেলা সদর থেকে মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে নাপিতেরহাট পর্যন্ত সড়কে ১৫ মিটার ও ১৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে দুটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট চার কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার ১৬৪ টাকা বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেয়া হয়। তবে এখনো টেন্ডার সম্পন্ন না হওয়ায় কাজ শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আক্কেল মিয়ার বাজার সংলগ্ন আয়রন ব্রিজ ও হাশেমের পুল নামে পরিচিত কালভার্ট দুটি এখনো কার্যকর রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, এই দুটি স্থাপনা অত থাকা সত্ত্বেও একই স্থানে নতুন গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয়। স্থানীয়রা জানান, আয়রন ব্রিজে চুরি ও ঝুঁকি বাড়লেও এখনো কোনো সংস্কার বা নতুন নির্মাণের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।
এ দিকে রাজাপুরের মোল্লারহাট-শ্রীমন্তকাঠি ও পিংড়ি ভায়া বলারজোড় হাট সড়কে ৯ মিটার আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ শেষ হলেও দুই পাশের এপ্রোচ (ঢাল) না থাকায় এক বছর ধরে সেটি কার্যত অচল পড়ে আছে। এক কোটি ৪০ লাখ টাকার এই ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল সম্ভব না হওয়ায় রোগীবাহী গাড়িসহ সাধারণ মানুষকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
আরো উদ্বেগজনক হলো- কাটাখালি হাট, গালুয়া, দুর্গাপুর, কৈবর্তখালী ও ফকিরহাট এলাকার খালের ওপর চারটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই কোটি এক লাখ ৮৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও দেড় বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ১০ শতাংশ। পুরনো ব্রিজ ভেঙে ফেলে নতুন কাজ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
ঝালকাঠি জেলা সুজন সভাপতি ইলিয়াছ সিকদার ফরহাদ বলেন, ‘উন্নয়ন প্রকল্প মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য। অথচ কাজ ফেলে রাখায় জনভোগান্তি আরো বেড়েছে। জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এমন পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।’
এ বিষয়ে রাজাপুর এলজিইডি প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, দুটি গার্ডার ব্রিজের বরাদ্দ থাকলেও এখনো টেন্ডার সম্পন্ন হয়নি। টেন্ডার শেষে কাজ শুরু হবে। এপ্রোচ নির্মাণ বিলম্ব ও আয়রন ব্রিজের কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন করে টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলছে।



