অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা
কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা অষ্টগ্রামে বিদ্যুৎ সঙ্কট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের পর দিন তীব্র লোডশেডিং এবং সেই সাথে অবিশ্বাস্য ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের গ্যাঁড়াকলে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ৪ ঘণ্টাও মিলছে না বিদ্যুৎ। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও মাস শেষে গ্রাহকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে অস্বাভাবিক অংকের বিল, যা গ্রাহকদের ক্ষোভ দাবানলে পরিণত করেছে।
এলাকার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুতের দেখা না মিললেও মাস শেষে বিল পরিশোধের চাপ ঠিকই থাকছে। উপজেলার কাস্তুল বাজারের বিদ্যুৎ গ্রাহক মাহফুজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার বিদ্যুৎ বিলে মাত্র ১০ ইউনিট খরচের বিপরীতে বিল পাঠানো হয়েছে ৭৫০ টাকা। একই অভিযোগ অষ্টগ্রামের রফিকুল ইসলামের, তার মাত্র ১৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচের জন্য বিল এসেছে ৯০০ টাকা।
ইসলামপুরের মোখলেছুর রহমান জানান, মাত্র একটি লাইট ও একটি ফ্যান ব্যবহার করি। দৈনিক গড়ে মাত্র ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেয়েও চলতি মাসে বিল এসেছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা। উপজেলার একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, দিনে-রাতে প্রায় ২১ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না দিয়ে কীভাবে এত বিশাল অংকের বিল আসে তা আমাদের মাথায় আসে না।
এ দিকে দীর্ঘমেয়াদি লোডশেডিংয়ের প্রভাবে শুধু যে গৃহস্থালি জীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে তা নয়; এলাকার অর্থনৈতিক চাকাও পুরোপুরি স্তব্ধ হওয়ার মুখে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে হাওরাঞ্চলের বরফকল, রাইস মিল, ওয়েল্ডিং কারখানা এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন শত শত শ্রমিক ও কারিগর।
অন্য দিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে সেবা প্রদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিঠামইন জোনাল অফিসের ডিজিএম ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে না। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার কারণেই স্থানীয়ভাবে এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থাকে বা ভুল আসে, তারা অফিসে লিখিত আবেদন করলে আমরা তা দ্রুত যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করে দেব।



