তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ সুনামগঞ্জ
উন্নত জীবনের স্বপ্নে বিভোর হওয়া সুনামগঞ্জের ছয় তরুণের পরিবারে নেমে এসেছে হাহাকার আর চরম উৎকণ্ঠা। লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার সময় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ওই ছয় তরুণ নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার। গত কয়েক দিন ধরে স্বজনরা বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করলেও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছেন না।
নিখোঁজ তরুণরা হলেন, পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের চিকারকান্দি গ্রামের এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন, রনসী গ্রামের মো: তালহা, পশ্চিম পাগলার শত্রুমর্দন গ্রামের হৃদয় পাল এবং দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের সাগর পাল।
এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হওয়া শান্তিগঞ্জের আরো চার তরুণ বর্তমানে মিসরের মারসা মাতরুহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা হলেন, দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী গ্রামের বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বুরুমপুর গ্রামের আলিম উদ্দিন এবং পাথারিয়া ইউনিয়নের আবু সাইদ ও আব্দুল করিম। স্বজনদের দাবি, তাদের শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা ভালো।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল করিম এক ভিডিও বার্তায় জানান, ৪২ জন বাংলাদেশীকে নিয়ে তারা লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছার পর নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকলেও দালালচক্র বা কোনো উদ্ধারকারী সংস্থা তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
আব্দুল করিমের দাবি, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তাদের চোখের সামনেই ১১ বাংলাদেশী মারা যান। পরে তাদের লাশ সাগরে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হন তারা। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে জীবিতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও পচন ধরেছে। বর্তমানে মিসরের ওই হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান তিনি।
নিখোঁজ হওয়া তরুণ তালহার চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান বলেন, গত ২ আগস্ট তালহা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ৩ আগস্ট ভোরে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজ হৃদয় পালের বাবা রন্টু পাল বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত উমর আলী ও শান্তিগঞ্জের ডুংরিয়া গ্রামের কদ্দুস আলীর সাথে ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি করে হৃদয়কে প্রথমে ঢাকা থেকে ভারতে পাঠানো হয়। পরে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে তাকে লিবিয়ায় নেয়া হয়। সেখান থেকে গ্রিস যাওয়ার সময় তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তারা। বিষয়টি খোঁজ নিতে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে গেছে বলেও জানান তিনি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমা বলেন, নিখোঁজদের পরিবারের সাথে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।



