রয়টার্স
জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতর জানিয়েছে, লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের হামলায় গত এক বছরে অন্তত ১২৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তার পর থেকে হামলা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বলেন, “যুদ্ধবিরতির প্রায় এক বছর পরও আমরা ইসরাইলি সেনাদের ক্রমবর্ধমান হামলা প্রত্যক্ষ করছি, যা বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং তাদের সম্পদ ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা তাদের নিজস্ব কঠোর যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলায় শুধু প্রাণহানি নয়, লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ অসংখ্য বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে হামলার তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার জন্য ইসরাইলকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, হামলার মাত্রা ও ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা সতর্ক করেছে, যদি হামলা অব্যাহত থাকে তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সঙ্ঘাতে রূপ নিতে পারে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেক আহত ব্যক্তি চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে সঙ্ঘাত আরো বিস্তৃত হতে পারে। জাতিসঙ্ঘের আহ্বান সত্ত্বেও এখনো কোনো পক্ষই স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে সক্ষম হয়নি।



