ক্রীড়া প্রতিবেদক
ম্যাচের কৌশল, একাদশ কিংবা পরিসংখ্যানের বাইরে এবার আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনার জার্সি পছন্দ। ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা হোম কিটের বদলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামতে আগ্রহী লিওনেল স্কালোনির দল। তবে সেই ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের!
আর্জেন্টিনার এই আগ্রহের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। তবে দেশটির ফুটবল সংস্কৃতিতে বহুল প্রচলিত ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যে বিশ্বাসের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। আর্জেন্টিনার অনেক ফুটবলার, কোচ এবং সমর্থক দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট রীতি বা অভ্যাসকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করেন। সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবারো নীল জার্সিতে মাঠে নামতে চায় দলটি।
জার্সি নির্ধারণের বিষয়টি শুধু দুই দলের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে না। ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ফিফার প্রতিনিধিদের বৈঠকে দুই দলের পোশাক চূড়ান্ত করা হবে। একই বৈঠকে ম্যাচ-সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিষয়ও নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
ফিফার নকআউট পর্বের নিয়ম অনুযায়ী, ব্র্যাকেটে ওপরে থাকা দলকে ‘হোম’ বা ‘টিম এ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবারের সেমিফাইনালে সেই মর্যাদা পেয়েছে ইংল্যান্ড। ফলে তারা চাইলে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সি পরতে পারবে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনাকে বাধ্য হয়েই নীল অ্যাওয়ে কিটে খেলতে হবে। তবে ইংল্যান্ড যদি নিজেদের লাল অ্যাওয়ে জার্সি বেছে নেয়, তাহলে আর্জেন্টিনা তাদের পরিচিত আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরার সুযোগ পাবে।
এ দিকে আর্জেন্টিনা অবশ্য পরিস্থিতির অপেক্ষায় না থেকে আগেভাগেই নীল জার্সিতে খেলার অনুমতি চেয়ে ফিফার কাছে আবেদন করেছে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুলের দাবি, আলবিসেলেস্তেরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধ জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে। যদিও এখন পর্যন্ত ফিফা এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন দেয়নি!
এর পেছনে ইতিহাসও রয়েছে। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা, আর সে দিন তাদের গায়ে ছিল নীল জার্সি। সেই ম্যাচেই দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একক নৈপুণ্যের গোল। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দু’টি জয়ের প্রতিটিতেই তারা ঐতিহ্যবাহী হোম কিটের বদলে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরেছিল। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোতেও পেনাল্টি শুটআউটে ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছিল তারা নীল জার্সি গায়েই।
পরিসংখ্যানও বলছে, এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই সাদা জার্সি ব্যবহার করেছে। কেবল পানামার বিপক্ষে প্রতিপক্ষের জার্সির রঙের কারণে তারা লাল কিট পরে খেলেছিল। অন্য দিকে আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একবার নীল জার্সি পরেছে, সেটিও গ্রুপ পর্বে জর্দানের বিপক্ষে। প্রতিপক্ষের সাদা জার্সির কারণে সে দিন অ্যাওয়ে কিট ব্যবহার করতে হয়েছিল এবং সেই ম্যাচে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছিল মেসিরা।
এখন সব কিছু নির্ভর করছে ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং দুই দলের আনুষ্ঠানিক জার্সি নির্বাচনের ওপর। সেমির মহারণে আর্জেন্টিনা তাদের চিরচেনা আকাশি-সাদা জার্সিতে মাঠে নামবে, নাকি ইতিহাস আর সৌভাগ্যের বিশ্বাসকে সঙ্গী করে ১৯৮৬ সালের স্মৃতিবিজড়িত নীল জার্সিতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করবে!



