গাজার সঙ্কট সমাধানে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে : ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

আনাদোলু ও আলজাজিরা

ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার মানবিক সঙ্কটের সমাধানে ব্রিটেনকে ‘আরো বড় ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ’ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘গাজায় সরাসরি অবস্থান করছেন এবং সম্প্রতি সেখান থেকে ঘুরে এসেছেন- এমন ব্যক্তিদের সাথে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে এইমাত্র বের হলাম। সত্যি বলতে, সেখানে যা ঘটছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ।’ তিনি আরো জানান, বিশেষজ্ঞরা তাকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ‘ওষুধ পৌঁছাতে বাধা দেয়া হচ্ছে’ এবং ‘জরুরি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অপেক্ষায় থেকে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে।’

যুক্তরাজ্যের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেন, ‘যুক্তরাজ্য সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে এবং এখন পর্যন্ত যা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তার চেয়েও আরো জোরালো ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।’

গাজার কোনো স্থানই নিরাপদ নয়

  • -জাতিসঙ্ঘ

গাজায় দখলদার ইসরাইলি আগ্রাসন তীব্রতর হওয়া এবং এসব হামলায় শিশু ও নারীদের হতাহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতর ঘোষণা করেছে যে, গাজায় কোনো স্থানই নিরাপদ নয় এবং তেলআবিবের হামলা থেকে কেউই রক্ষা পাচ্ছে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন সংস্থার বরাতে জানা গেছে, জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার দফতর এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও গাজা উপত্যকায় কোনো নিরাপদ স্থান নেই এবং এই অঞ্চলে কেউই নিরাপত্তার মধ্যে নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবের অব্যাহত পদক্ষেপের ফলে বেসামরিক জনগণের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে এবং গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েই চলেছে। গতকাল শনিবার ভোরে ইসরাইলি বাহিনী কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই হামলায় ইসরাইলি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য ছিল গাজা শহরের পূর্বাঞ্চলের আত-তুফ্ফাহ এলাকা। এ ছাড়া ইসরাইলি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও নৌযানগুলো গাজা উপত্যকার দক্ষিণে অবস্থিত খান ইউনুস শহরের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় হামলা চালায়। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব হামলায় কমপক্ষে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

৫৫ জনের লাশ উদ্ধার

গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৫৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স। নিহত সবাই মালকা পরিবারের সদস্য। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টা ধরে মালকা পরিবারের ৬০ জনের বেশি সদস্যের লাশ সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। এর মধ্যে বেশির ভাগের দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে।

প্রায় দুই বছর আগে ইসরাইলি বোমাবর্ষণের সময় মালকা পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

পশ্চিমতীরে ৬,৪০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত

ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ভূমি দখলের কারণে ২০২৩ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ছয় হাজার ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, এ সময়ে ১৩০টি ফিলিস্তিনি বসতি থেকে মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং ৪৮টি বসতি পুরোপুরি খালি হয়ে গেছে। চলতি বছরেই দুই হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু। জাতিসঙ্ঘের মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা, ভূমি দখল ও অন্যান্য বিধিনিষেধের কারণে পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের মানবিক সঙ্কট আরো গভীর হচ্ছে। আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশের পর সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা বেড়েই চলেছে। শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে হারেৎজ জানায়, গত এক সপ্তাহে তিনটি ঘটনায় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে অন্তত সাত ফিলিস্তিনি আহত হন এবং দু’জন নিহত হন। অভিযোগ রয়েছে- সেনাদের উপস্থিতিতে বসতিস্থাপনকারীরা গ্রামের বাড়িঘরের কাছে প্রবেশ করে এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হলে ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।