প্রস্তাবিত বাজেট ব্যয়ের দিক থেকে গতানুগতিক এবং আর কর নীতির দিক থেকে সাহসী। তবে ৭ লাখ ৯০ হাজর কোটি টাকার এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য না বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তবে অর্জিত হবে কি না সেটা পরের কথা।
বাজেট পর্যালোচনায় ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা যুগ যুগ ধরে যেসব কর অব্যাহতি পেয়ে আসছে, সেগুলোয় হাত দিতে কেউ সাহস করেননি। শুধু গত সরকার না, আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সাইফুর রহমান বলেন, মির্জা এবি আজিজুল ইসলাম বলেন- কেউই ওই জায়গাতে হাত দিতে চায়নি। ওই সব সুযোগের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে, আরেক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। সেখান থেকে দুই জায়গায় এক করপোরেট আয়কর এবং ভ্যাটের ক্ষেত্রে অব্যাহতি উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। এটা একটা বড় সাহসী পদক্ষেপ। তবে সাহসী কি দুঃসাহসী সেটা বলে দেবে এই মাস গেলে। কারণ কিছু হলেই ব্যানার নিয়ে সব রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে। আলটিমেটাম দিয়ে দেয়া হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চেয়ে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তবে ব্যবাসয়ীদের দিক থেকে একটা পুশব্যাক আসবে।
ড. জাহিদ বলেন, দ্বিতীয় সাহসী পদক্ষেপ হলো, দেশীয় বাজারমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে যে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে, সেটা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বাধ্যবাধকতা ছিল যে, আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আসতেছে, ট্রাম্পের সাথে নেগোসিয়েট করতে হবে। আগেও তো এসব কথা বলা হয়েছে যে, এসব আমাদের দরকার আছে। তবে এখন না, এখনো সময় আছে, আরেকটু দেখি। বিভিন্ন ছুতায় এগুলোকে পিছিয়ে দেয়া হতো। এখানে কিন্তু এই কাজটা করা হয়েছে। টিকবে কি না সেটা পরের বিষয়। এ জন্যই হলো সাহসী পদক্ষেপ।
গতানুগতিকের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেই। কিছু কিছু ছোট ছোট গতানুগতিক পদক্ষেপ আছে ব্যয়ের। ব্যয়টা খুবই উচ্চাভিলাসী। এই ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। অর্থায়নের দিক থেকে এই বাজেটকে মূল্যায়ন করলে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়, এটা সরকার কি দিয়ে করবে? যেখানে কমিয়েছেন সেখানে রেভিনিউ গেইন হবে। অন্য দিকে, আমদানি শুল্ক কমিয়েছেন সেখানে রাজস্ব লস হবে। কর অব্যাহতি, আয়কর অব্যাহতি সীমা বাড়িয়েছেন, সেখানে রাজস্ব কমবে। এ ছাড়া স্টক মার্কেটে এদের সুবিধার ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সাড়ে ২২ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়েছেন। এখানে রাজস্ব লস হবে।
ড. জাহিদ বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ রাজস্ব অর্জন ৩ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এটা ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছর। এই বছর তো ৪ লাখ আদায়ে ঘাম বেরিয়ে যাবে। মনে হয় না আদায় হবে। আপনি এক বছরের মধ্যে যে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বাড়াবেন, সেটা কিভাবে সম্ভব। তবে সেটা সম্ভব হবে, যদি পাচারকৃত অর্থ যদি ফিরিয়ে আনতে পারেন। সম্ভাবনা খুবই কম। যদি ৫-৬ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে পারেন। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় কমপক্ষে এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি তো হবেই। সে ক্ষেত্রে কিভাবে এই বাজেট বাস্তবায়ন করবেন। সরকারি কর্মচারীদের একটা বিশেষ সুবিধা নাম দিয়েছে। এটার কী দরকার ছিল। তাদেরকে কেন এককভাবে সুবিধা দেয়ার দরকার। এগুলো তো গতানুগতিক ধারায় হচ্ছে।
প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, সাড়ে ৫ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব। আগে যেমন বিশাল আকারের একটা প্রবৃদ্ধি দিয়ে দেয়া হতো। এটা তো আইএমএফের প্রাক্কলন ৫.৬ শতাংশ। কিন্তু সরকারেরটা কম। আগে তো সরকারেরটা বেশি থাকতো। তবে এটা অর্জন যোগ্য, অর্জিত হবে কি না সেটা পরের কথা। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিও যেটা ধরা হয়েছে সেটাও অর্জনযোগ্য। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তো পণ্যমূল্য কমছে।



