ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিরবচ্ছিনভাবে ফুটবল ম্যাচ আয়োজন এবং সেখানে আন্তর্জাতিক খেলা চালানোর জন্য নিজস্ব স্টেডিয়াম প্রয়োজন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের হাতে সেই স্টেডিয়াম নেই। এক মাত্র ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম বাফুফে ব্যবহার করলেও সাথে অ্যাথলেটিক্সও এই মাঠে জাতীয় ও সামার মিট আয়োজন করে। এই স্টেডিয়ামের বাইরে আরো আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম প্রয়োজন বাফুফের। এ জন্য বাফুফে সারা দেশের ৮টি স্টেডিয়াম চেয়েছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে। গতকাল বাফুফে ভবনে এসে তিনটি স্টেডিয়াম দেয়ার ঘোষণা করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এগুলো হলো- ঢাকা স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম। গতকালই প্রথম বাফুফে ভবনে আসেন আসিফ নজরুল। এ ছাড়া কমলাপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারির দায়িত্ব ভারও এখন বাফুফের অধীনে। এই স্টেডিয়ামগুলো পাওয়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও পরিকল্পনা সাজিয়েছে। এ বছর পুরুষ সাফ ফুটবল বাংলাদেশে হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে। বাফুফে সভাপতি গতকাল জানান, আমরা সাফের আয়োজক হলে ঢাকার বাইরেও সাফ ফুটবল আসর আয়োজন করতে চাই।
এই মুহূর্তে দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করার মতো স্টেডিয়াম মাত্র দু’টি। একটি জাতীয় স্টেডিয়াম। অপরটি বসুন্ধরা কিংস এরিনা। গতকাল বাফুফে সভাপতি তা উল্লেখও করলেন। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, ঢাকা , সিলেট ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে শুধু ফুটবলের জন্য। তবে ক্রিকেট ছাড়া অন্য ডিসিপ্লিনের খেলাও বাফুফের অনুমতি নিয়ে করা যাবে। সাথে তিনি আরো উল্লেখ করেন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল দায়িত্ব নেয়ার পর এবং সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সময়ে ফুটবলে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। নারী ফুটবল দল সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বহু বছর পর বাংলাদেশ দল পুরুষ ফুটবলে ভারতকে হারিয়ে সারা দেশে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে।’ এরপর জানান , আমি অল্প ক’দিনের জন্য আছি। এর পরও কয়েকটি বিষয়ে আমি বাফুফের সাথে একমত পোষণ করেছি। তা হলো ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম ডেডিকেটেড ওয়েতে ফুটবলকে দিয়ে দেয়া। সে সাথে কমলাপুর স্টেডিয়ামের মাঠের পাশাপাশি গ্যালারির দায়িত্বভারও বাফুফেকে দেয়া হয়েছে। কমলাপুর স্টেডিয়ামের ডরমেটরিও বাফুফে রক্ষণাবেক্ষণ করবে। তবে এলোকেশন দিতে হবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে।
এরপর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল জানান, আমরা সরকারের কাছ থেকে যে আর্থিক ও অবকাঠামো গত সহযোগিতা পেয়েছিলাম তা যেন অন্তত আগামী এক বছরের জন্য অব্যাহত থাকে।’ তিনি উল্লেখ করেন, আমরা কক্সবাজার টেকনিক্যাল সেন্টারের জমির কাজ আরো কমপ্লিট করার আবেদন করেছি সরকারের কাছে। আমরা কিছু মান স্টেডিয়াম চেয়েছিলাম যেগুলো বাফুফের তত্ত্বাবধানে থাকলে আসলেই খেলা উপযুক্ত হয়।’ তাবিথ আরো জানান, কক্সবাজারে টেকনিক্যাল সেন্টারের জমি পাওয়ার ব্যাপারে ফিফার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। বাফুফে সভাপতি বলেন, আমরা আরো যে স্টেডিয়ামগুলো চেয়েছিলাম তা ধাপে ধাপে পাবো। এখন জরুরি ভিত্তিতে দু’টি স্টেডিয়াম চেয়েছিলাম যাতে সেখানে ফিফা টায়ার ওয়ানের খেলা আয়োজন করা যায়।
জানান, আমরা এই সাফ ফুটবলকে দেশের তিনটি স্টেডিয়ামে আয়োজন করতে চাই। তার আশা সাফে ভারতীয় দলের বাংলাদেশে খেলতে কোনো সমস্যাই নেই। গত বছর নভেম্বরে ভারত ঢাকায় এসে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্ব খেলে গেছে। আমরাও গত মার্চে ভারতে খেলতে গিয়েছিলাম। কোনো সমস্যা হয়নি।
মালদ্বীপ থেকে চার জাতি ফুটবলে অংশ নেয়ার প্রস্তাব এসেছে। তাবিথ জানান, আমরা বেশ গুরুত্বের সাথে এই প্রস্তাব বিবেচনা করছি। কোচ কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে জানান, সব সিদ্ধান্তই সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে হবে।



