চার দিকে থানা-ফাঁড়ি : তবু নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার এলাকা এখন ছিনতাই ও অপরাধের প্রধান হটস্পটে পরিণত হয়েছে

হারুন ইসলাম
Printed Edition
চার দিকে থানা-ফাঁড়ি : তবু নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরা
চার দিকে থানা-ফাঁড়ি : তবু নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরা

দেশের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই এলাকাটির রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত জোন হওয়ার কথা। খাতা-কলমে হিসাবটা তেমনই। ক্যাম্পাসের এক পাশে শাহবাগ ও অন্য পাশে নিউমার্কেট থানা। প্রবেশমুখগুলোতে রয়েছে পুলিশের দুটি ফাঁড়ি, সেই সাথে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রক্টরিয়াল টহল দল। কিন্তু এতসব নিরাপত্তাবেষ্টনীর পরও ক্যাম্পাসের বর্তমান বাস্তব চিত্র চরম উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ।

একের পর এক খুন, দুর্ধর্ষ ছিনতাই আর প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা কারবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন এত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কেন দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়ছে? এটি কি কেবলই প্রশাসনিক দুর্বলতা, নাকি সমন্বয়ের চরম অভাব?

খুনের তালিকা বাড়ছে, প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেই কার্যকর পদক্ষেপ

২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য। পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। টিএসসি ও রমনা কালীমন্দির গেট সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গুরুতর আহত সাম্যকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার-সংলগ্ন এলাকাগুলো ছিনতাই, চুরি ও সহিংসতার হটস্পটে পরিণত হয়েছে।

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে গত ১৫ মার্চ রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় রাকিবুল ইসলাম নামে এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।

শাহবাগ থানা-পুলিশের তথ্যমতে, রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় তিন-চারজন যুবক এসে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করার পর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাদক ও ছিনতাইয়ের হটস্পট

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, নীলক্ষেত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং শহীদ মিনার এলাকা এখন ছিনতাই ও অপরাধের প্রধান হটস্পটে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই এসব এলাকায় বাড়ে বহিরাগতদের আনাগোনা। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের। ঐতিহাসিক এই উদ্যানটি এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। তিন নেতার মাজার থেকে শুরু করে রমনা কালীমন্দির গেট ও মুক্তমঞ্চ এলাকায় প্রকাশ্যে চলে গাঁজাসহ নানা রকম মাদকের বেচাকেনা। পথচারীদের অভিযোগ, গাঁজার গন্ধে ওই এলাকা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাও দায় হয়ে পড়ে।

গত ২৫ জানুয়ারি উদ্যানের রমনা পার্ক-সংলগ্ন এলাকায় ছুরি দেখিয়ে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের চার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় কয়েকজন তরুণ।

২০২৪ সালের ২১ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক নারী পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করে ছিনতাইকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আজহারকে আটক করা হয়। পরে তাকে ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এই মাদক চক্রে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ভাসমান নারী ও শিশুদের। মেট্রোরেল স্টেশন দিয়ে উদ্যানে ঢুকলেই দেখা যায়, কিশোরীরা জামার ভেতর থেকে গাঁজার পুরিয়া বের করে ক্রেতাদের দিচ্ছে। এ বিষয়ে এক কিশোরী জানায়, আগে তারা ফুল বিক্রি করত, এখন ‘পেটের দায়ে’ বাধ্য হয়ে এই পথে নেমেছে। জিসান নামের আরেক পথশিশু জানায়, সে উদ্যানেই থাকে এবং দিনে ৫০০ টাকা মজুরির বিনিময়ে গাঁজা বিক্রি করে।

যদিও মাদক নির্মূলে রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফা বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটকের পাশাপাশি মাদকসেবীদের মারধরের ঘটনাও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা।

কী বলছেন শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা?

শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের মত, সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর টিএসসি-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেট বন্ধ করা হয়। পরে উদ্যানটি আরো নিরাপদ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও রমনা কালীমন্দির কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমনা কালীমন্দিরের গেটটি অন্য পাশে সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল, কারণ বেশির ভাগ সময় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা ওই গেটটি ব্যবহার করে। এতে ধর্মীয় পরিবেশও ক্ষুণœ হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই অপরাধের ঘটনাগুলো ঘটছে। তাদের মতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি ও শহীদ মিনার এলাকা রাতে প্রায়ই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পুলিশের টহল থাকলেও তা অপরাধ প্রতিরোধে যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ তাদের। ঢাবি ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের ঘটনায় তারা কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, ইদানীং প্রতি রাতে এরকম টাইমে শহীদ মিনারের ওখানে আমি রুটি খেতে যাই। রোববার নওগাঁ চলে আসায় যাইনি। টার্গেট মিস করে তো গুলিটা আমার মাথায়ও লাগতে পারত। এখন কি দেশের সবাইকে মিলিটারি গ্রেড হেলমেট পরে ঘোরাফেরা করার দিন চলে আসল নাকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত হওয়ায় এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো সমন্বিত ও আধুনিক করতে হবে। সিসি টিভির নজরদারি বাড়ানো, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হলে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাদের প্রশ্ন- চারদিকে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থাকার পরও যদি ক্যাম্পাস নিরাপদ না হয়, তবে শিক্ষার্থীরা কোথায় নিরাপত্তা পাবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং থানা প্রশাসন উভয়েরই রয়েছে।

তিনি জানান, এ এলাকায় মাদকের কারবার ও তা ঘিরে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি তারা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে অবহিত করেছেন। তবে বারবার জানানোর পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ কারণেই এমন অপরাধের ঘটনার ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে।

এবি জুবায়ের বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তাদের আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই; তারা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রশাসন যদি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তা হলে এ ধরনের ঘটনা থামবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ ক্যাম্পাস হিসেবে ধরা হলেও ক্যাম্পাস বা আশপাশ এলাকায় মাদকের বিস্তার ও খুন-খারাবির ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরো দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, সাম্য হত্যাকাণ্ডের পর টিএসসি-সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি গেট বন্ধ করা হয়। পরে উদ্যানটি আরো নিরাপদ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও রমনা কালীমন্দির কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমনা কালীমন্দিরের গেটটি অন্য পাশে সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল, কারণ বেশির ভাগ সময় মাদকসেবী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা ওই গেটটি ব্যবহার করে। এতে ধর্মীয় পরিবেশও ক্ষুণœ হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশে বেড়ে ওঠা অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু মাদক বহন বা বিক্রির মতো কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যাদের বয়স আনুমানিক মাত্র আট বা নয় বছর, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতির কারণে অনেক শিশুই মাদকচক্রের সাথে যুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর থেকে কিছু নারী ফুল বিক্রির আড়ালে মাদক বিক্রি করে আবার চলে যায় বলে জানান তিনি।

সর্বমিত্র চাকমা আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হয়, তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সেই কেন্দ্রের জন্য ক্যান্সারের মতো হয়ে উঠছে। এখানকার মাদক সিন্ডিকেটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীও কখনো কখনো এসব চক্রে জড়িয়ে পড়ছে। অতীতে প্রলয় গ্যাংয়ের মতো ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। তিনি মনে করেন, পরিবেশগত প্রভাবই এর বড় কারণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ বিষয়ে যথেষ্ট সক্রিয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

প্রশাসনের অসহায়ত্বের সুর ও পুলিশের নীরবতা

নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছুটা অসহায়ত্বের সুর শোনা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো ঘটনা ঘটার পর আমরা যত চেষ্টা করি সেটার চেয়ে ঘটনার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন বিভিন্ন ধরনের শৃঙ্খলা বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে চাই, তখন অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেসব উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শহীদ মিনার বা পলাশী এলাকায় বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ বা শৃঙ্খলা আনতে যাই, তখন শিক্ষার্থীদেরই একটি অংশ ‘উন্মুক্ত স্থান’ বা ‘ওপেন স্পেস’ দাবি করে এর বিরোধিতা করে। তখন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে পড়ে।’ তিনি আরো বলেন, পুলিশ ফাঁড়ির মূল দায়িত্ব শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। আশপাশের শাহবাগ, নিউ মার্কেটসহ অন্যান্য এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কাজও তারা করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ বা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও শিক্ষার্থীদের অবস্থানকে তারা গুরুত্ব দেয়।

ঢাবির এ সহকারী প্রক্টর বলেন, আমরা সব সময়ই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিক। কিন্তু যখন কোনো ব্যবস্থা নিতে যাই, তখন অনেক সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিরোধিতা করে। আবার যারা সমর্থন করে, তাদের আওয়াজ অনেক সময় সামনে আসে না। তবুও আমরা বিশ্বাস করি, যদি শিক্ষার্থীরা একটু সহযোগিতা করে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে সমর্থন জানায়, তা হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারাটা আমাদের জন্যও কষ্টের বিষয়। কারণ এসব উদ্যোগ নিতে গেলে অনেক সময় আমাদের নিজেদের শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়, যা আমাদের জন্য সত্যিই বেদনাদায়ক।

ক্যাম্পাসে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় একটি উন্মুক্ত জায়গা। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্যাম্পাসে পুলিশের স্থায়ী উপস্থিতি পছন্দ করে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ডাক ছাড়া পুলিশ সাধারণত ভেতরে কাজ করে না। ফলে পুলিশি কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা কী চাইছে তার ওপর।

সার্বিক বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।