হাওরাঞ্চলে সিলিন্ডার গ্যাসের ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে হাওর এলাকায় গ্যাসের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ী, নিম্ন আয়ের পরিবারসহ সাধারণ গ্রাহকরা।
স্থানীয় ব্যবহারকারীরা জানান, যেখানে সরকার নির্ধারিত দামে একটি সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য ছিল এক হাজার ৩০০ টাকা, সেখানে এখন দুই হাজার টাকায়ও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্গম হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের অভাবে সাধারণ হোটেলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে জীবিকা সঙ্কটে পড়েছেন হোটেল শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন নিকলীর ছাতিরচরের হাওর, অষ্টগ্রাম, মিঠামইন ও ইটনা উপজেলার বিভিন্ন হাওরের আবাসিক অঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সিলিন্ডার পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এই সুযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত দাম দিয়েও গ্যাস কিনতে পারছেন না ব্যবহারকারীরা।
নিকলী উপজেলার জারইতলা এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আবদুস ছাত্তার বলেন, এক হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার এখন দুই হাজারেও পাওয়া যায় না। চারজন কর্মচারী নিয়ে সকাল থেকে বসে আছি, গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছি না।’ তিনি আরো জানান, আগের মতো কেরোসিন বা ডিজেল দিয়ে চুলা জ্বালানোও এখন ব্যয়বহুল এবং তা লাভজনক নয়।
নিকলী আঠারবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘কোম্পানির লোকজন অতিরিক্ত দাম চাইছে এবং ভাউচার দিতেও রাজি নয়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কিনে পরে আইনি ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কায় আমি দোকানে গ্যাস রাখা সাময়িক বন্ধ রেখেছি।’
বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে বসবাসরত নিকলীর আবদুস ছোবানের পরিবার ও আশপাশের নারীরা জানান, গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য রান্না করাই দায় হয়ে পড়বে। বিশেষ করে সব জায়গায় লাকড়ি ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় রান্নার বিকল্প ব্যবস্থাও নেই।
বর্তমানে গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই সিলিন্ডার গ্যাসনির্ভর। সময় ও শ্রম বাঁচানোর কারণে অতিরিক্ত খরচ জেনেও মানুষ গ্যাস ব্যবহারে অভ্যস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় হাওরবাসী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করতে না পারে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি, অষ্টগ্রামের ইউএনও সিলভিয়া স্নিগ্ধা, বাজিতপুরের ইউএনও শহীদুল ইসলাম সোহাগ এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



