বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে কড়া নির্দেশনা জারি করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এখন থেকে নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাবে না। যদিও বর্তমানে দেশের বেসরকারি স্কুল কলেজে শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। এই পদগুলো পূরণে সম্প্রতি সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। তবে শুধু নিবন্ধন সনদ রয়েছে এমন প্রার্থীরাই শিক্ষক নিয়োগের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও এনটিআরসিএতে চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) না দিয়ে নিবন্ধন সনদবিহীন শিক্ষক নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সংক্রান্ত নীতিমালা ও পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এ ধরনের নিয়োগকে আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এনটিআরসিএ’র পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। চিঠিটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরসহ তিনটি শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।
এনটিআরসিএ’র চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২৫ জানুয়ারি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পরিপত্র অনুযায়ী দেশের সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শূন্যপদ পূরণে এনটিআরসিএতে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে অবশ্যই ই-রিকুইজিশন দিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শূন্যপদ থাকলে চাহিদা দেয়া বাধ্যতামূলক এবং সেই চাহিদার ভিত্তিতেই এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে। এ ছাড়া এনটিআরসিএ আইন, ২০০৫-এর ১০ অনুচ্ছেদ-এর উপ-ধারা (১)-এর অধীন ‘কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত শিকদের তালিকায় অন্তুর্ভুক্ত, নিবন্ধিত ও প্রত্যয়নকৃত না হলে কোনো ব্যক্তি কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের যোগ্য বিবেচিত হবেন না।’
এ ছাড়া সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রদর্শককে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এনটিআরসিএর নিবন্ধনধারী ও সুপারিশপ্রাপ্ত হতে হবে। চিঠিতে আরো বলা হয়, আইন, নীতিমালা ও পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান চাহিদা না দিলে বা নিবন্ধনবিহীন শিক্ষক নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হবে।
সূত্র জানায়, তিনটি অধিদফতরের অধীনে এমপিও ও ননএমপিও মিলে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানে সাড়ে পাঁচ লাখের মতো শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। ননএমপিও প্রতিষ্ঠানও কয়েক হাজার।
এ দিকে গত ৫ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তিতে মোট পদ সংখ্যা ৬৭ হাজার ২০৮টি। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজে শূন্য পদের সংখ্যা ২৯ হাজার ৫৭১টি। মাদরাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪ এবং কারিগরিতে ৮৩৩টি পদ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ ও ফি জমা প্রদানের তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৬ হতে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। আবেদনকারীর বয়স ৪ জুন ২০২৫ তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর এবং শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ হতে ৩ (তিন) বছর। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা সমপদে আবেদনের যোগ্য হবেন না। পদভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা, আবেদন ফরম এবং নিয়োগের অন্যান্য তথ্য ও শর্তাবলি এনটিআরসিএ এর ওয়েবসাইট িি.িহঃৎপধ.মড়া.নফ এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ওয়েবসাইট যঃঃঢ়://হমর.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ-এ পাওয়া যাবে।



