বড়পুকুরিয়ায় আকাশের নিচে সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিক টন কয়লা

খনির কোল ইয়ার্ডে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে প্রায় সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন কয়লা। অব্যবহৃত এ সব কয়লার বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় না হওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতেও চরম সঙ্কটে পড়েছে।

সাদাকাত আলী খান, দিনাজপুর
Printed Edition
খোলা আকাশের নিচে কয়লার স্তূপ
খোলা আকাশের নিচে কয়লার স্তূপ |নয়া দিগন্ত

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চাহিদা অনুযায়ী কয়লা গ্রহণ করতে না পারায় দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কার্যক্রম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। খনির কোল ইয়ার্ডে বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে প্রায় সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন কয়লা। অব্যবহৃত এ সব কয়লার বাজারমূল্য প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় না হওয়ায় খনি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতেও চরম সঙ্কটে পড়েছে।

খনি সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা কেবলমাত্র বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেই সরবরাহ করার বিধান রয়েছে। খোলা বাজার, ইটভাটা কিংবা শিল্পকারখানায় এই কয়লা বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যে কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় কয়লা ব্যবহার করতে না পারলে খনিতে উৎপাদিত কয়লা অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।

বর্তমানে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে তিনটি ইউনিট একসাথে সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বছরের অধিকাংশ সময় এক বা একাধিক ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি পূর্ণমাত্রায় কয়লা ব্যবহার করতে পারছে না। স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যেখানে দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন, সেখানে পিডিবি দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার মেট্রিক টনের বেশি কয়লা গ্রহণ করতে পারছে না। এতে প্রতিদিনই কোল ইয়ার্ডে কয়লার মজুদ বাড়ছে।

এদিকে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে থাকায় কয়লার গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রাতের আঁধারে চুরির অভিযোগও উঠেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খনির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কয়লা উত্তোলনের প্রয়োজনে ১৫ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ভবিষ্যতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আরো প্রায় ৩০০ একর জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন, যার জন্য আনুমানিক এক হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। কিন্তু কয়লার বিপুল অর্থ আটকে থাকায় এই অর্থ জোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো ও কয়লা ব্যবহারে সমন্বয় না হলে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম বড় ধরনের সঙ্কটে পড়তে পারে।