মিরসরাইয়ে পাহাড়ের গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা

নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য

Printed Edition

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ি বনাঞ্চলে সরকারি ও সামাজিক বনায়নের মূল্যবান গাছ নির্বিচারে কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। করেরহাট থেকে ওয়াহেদপুর পর্যন্ত বিভিন্ন পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে গাছ নিধন চললেও সাম্প্রতিক সময়ে এর মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। বন বিভাগের অভিযানে মাঝেমধ্যে কিছু কাঠ জব্দ হলেও গাছ কাটার সাথে জড়িত মূল ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার পাহাড়ে গাছ কাটার কাজ শুরু হয়। রাতের শেষ ভাগে কাটা গাছ বিভিন্ন পথে পাচার হয়ে যায়। সম্প্রতি এমন এক ঘটনায় এলাকাবাসী খবর পেয়ে গাছচোরদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

সরজমিনে বারইয়ারহাট রেঞ্জের বড়তাকিয়া বিটের হাদি ফকিরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সামাজিক বনায়নের অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু রাতেই নয়, দিনের বেলাতেও গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। গাছগুলো পরে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আগে পাহাড়ে মানুষের যাতায়াত বেশি ছিল। এখন লোকজন কম যাওয়ায় সেই সুযোগ নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত অনেককে চেনা গেলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না।

মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, তাদের এলাকার পাহাড় ও পাদদেশ থেকে নিয়মিত গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। কিছুদিন আগে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে গাছচোরেরা পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বন বিভাগকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারইয়ারহাট রেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, রেঞ্জটির আওতায় তিনটি বিট রয়েছে। প্রায় ১১ হাজার ৬০০ একর বনভূমির মধ্যে বড়তাকিয়া ও বারইয়ারহাট বিটের কিছু অংশ মিরসরাই উপজেলায় পড়েছে। এসব এলাকায় সরকারের সৃজিত বাগানে সেগুন, মেহগনি, গামারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে। জানা যায়, সরকারি বনাঞ্চলের গাছ কাটার অভিযোগে গত ছয় মাসে সাতটি মামলা করেছে বন বিভাগ। জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকাতেও একই ধরনের গাছ নিধনের অভিযোগ রয়েছে।

বড়তাকিয়া বিট কর্মকর্তা মো: মামুন বলেন, পূর্ব পোলমোগরা এলাকায় সরকারি বনের গাছ কাটার ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিয়মিত টহলও দেয়া হচ্ছে।

বারইয়ারহাট রেঞ্জ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় কাটা গাছ জব্দও করা হয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু ব্যক্তি বনাঞ্চলের গাছ কেটে নিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, পাহাড়ি বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছ নিধন অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই বন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।