বিশেষ সংবাদদাতা
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের সদস্য শনাক্তে ঝটিকা ও গোপনে পরিদর্শন শুরু করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। গত বুধবার বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শনের পর গতকালও তিনি কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীর এই পরিদর্শনের বিষয়টি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর কাছে গোপন রাখা হয়।
বিমানবন্দর ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সিভিল এভিয়েশন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও তাদের প্রকৌশল শাখাসহ বিভিন্ন বিভাগে ছড়িয়ে থাকা দুর্নীতি দমনে তৎপর হয়েছেন মন্ত্রী। ঝটিকা পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্যÑ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কীভাবে এবং কাদের সাথে যোগসাজশ করে অনিয়ম করছেন, তা সরাসরি প্রত্য করা। পরিদর্শনকালে মন্ত্রী তার সাথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপরে (বেবিচক) কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে রাখেননি। এমনকি বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এলাকায় উপস্থিত হওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট পর তিনি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ফোন করে নিজের উপস্থিতির কথা জানান।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র নয়া দিগন্তকে জানায়, বাংলাদেশ বিমানকে লাভজনক সংস্থায় রূপান্তর করা এবং বিমানবন্দরে প্রায়ই ধরা পড়া বড় বড় সোনা চোরাচালান চালানের পেছনে কারা যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করাই এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ইতিমধ্যে অনিয়মে যুক্তদের শনাক্তে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বিমান ও বেবিচকের বিভিন্ন বিভাগে বড় ধরনের রদবদল ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। প্রয়োজনে পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদেরও সরিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা নয়া দিগন্তকে জানান, আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে এখন পর্যন্ত কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে ভবিষ্যতে এমন আরো গোপন পরিদর্শন চালানো হবে বলে জানা গেছে।



