জার্মানিতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গাজা সংহতি সমাবেশ পুলিশের হামলা

Printed Edition

মিডল ইস্ট আই

ইসরাইলের গাজা গণহত্যার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গত মঙ্গলবার বার্লিনের মিটে জেলায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি জানাতে। ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ ও ‘ভিভা প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে মুখরিত হয় রাজধানীর কেন্দ্রস্থল। তবে পূর্বনির্ধারিত ও অনুমোদিত বিক্ষোভটি কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই শেষ মুহূর্তে হঠাৎ নিষিদ্ধ করে বার্লিন কর্তৃপক্ষ। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়ে বহুজনকে টেনে হিঁচড়ে ভ্যানে তুলে আটক করে।

আটকের পরও অনেকে স্লোগান দিতে থাকে- ‘আমাদের চুপ করানো যাবে না।’ গত দুই বছরে এ স্লোগানই হয়ে উঠেছে বার্লিনের প্রো-ফিলিস্তিনি আন্দোলনের প্রতীক। জার্মান রাজধানী এখন ইউরোপের ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় তিন লাখ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস এখানে এবং প্রতি সপ্তাহেই নানা কর্মসূচি, র‌্যালি ও তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা জার্মান সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন- গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার। সম্প্রতি ইউগভ-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ জার্মান ভোটার ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ফলে রাজধানীর দেয়াল, সড়কবাতি ও দেয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড’ লেখা দেখা যায় সর্বত্র।

পুলিশি নিপীড়ন ও গ্রেফতারের মধ্যেও অনেক বার্লিনবাসী মনে করেন, রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানানোই গাজার গণহত্যাকে স্মরণে রাখার একমাত্র উপায়। লেবানন থেকে আসা প্রতিবাদকারী জিদান বলেন, ‘গত দুই বছর আরব হিসেবে বেঁচে থাকা কষ্টকর, কিন্তু প্রতিবাদে এসে বুঝি আমি একা নই।’

ইইউর চাপের মুখে জার্মানি

বর্তমানে জাতিসঙ্ঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৫৭টি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা জার্মানির কাছ থেকেও একই পদক্ষেপ আশা করছেন। ইইউ পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস জার্মানিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন বাণিজ্য সুবিধা স্থগিতের পরামর্শ দিলেও, বার্লিন এখনো সে পথে হাঁটেনি।

জার্মানি আগস্টে ইসরাইলের প্রতি আংশিক অস্ত্র রফতানি নিষিদ্ধ করলেও, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস স্পষ্ট করে বলেছেন- তার দেশ এখনই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে না। তিনি বলেন, ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবেই স্বীকৃতি দেয়া উচিত, এখন নয়।’ তবে ঘরোয়া রাজনীতিতেও সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

বামপন্থী দল ও মানবাধিকার সংস্থা এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ৫০টি সংগঠন ২৭ সেপ্টেম্বর বার্লিনে একত্রে বিশাল বিক্ষোভ করে, যেখানে অংশ নেয় এক লাখেরও বেশি মানুষ। তাদের হাতে ব্যানার- ‘অল আইজ অন গাজা’, ‘স্টপ দ্য জেনোসাইড।’ ফরাসি কর্মী কামিল বলেন, ‘সরকারের দ্বিচারিতা রাগিয়ে দেয়, কিন্তু আমরা চুপ থাকব না। প্রতিবাদই আমাদের শক্তি।’