নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দণি (ধানমণ্ডি থানার) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী জান্নাতআরা রুমির (৩০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোডের জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। এ দিকে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত মানসিক নির্যাতন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প থেকে আসা ধারাবাহিক হুমকির ফলেই এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে এক শোকবার্তা দিয়েছে এনসিপি।
হাজারীবাগ থানার এস আই মো: কামরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করি। ওই হোস্টেলের কাজের বুয়া থেকে জানতে পেরেছি, রুমির রুমের দরজায় ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। ভেতরে ঢুকে দেখতে পায় সিলিংফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে। পরে হোস্টেল কর্তৃপ ৯৯৯ নম্বরে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেকে পাঠানো হয়। নিহত নারীর প্রথম স্বামীর সংসারে একটি মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্বামীর ঘরে একটি ছেলে রয়েছে। তিনি নওগাঁ জেলার পতœীতলা থানার নাজিরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মো: জাকির হোসেন ও নুরজাহান বেগমের মেয়ে।
নিহতের সাবেক স্বামী মো: বিপ্লব সরকার জানান, তার সাথে চার থেকে পাঁচ মাস আগে জান্নাতাআরা রুমির ডিভোর্স হয়। এর আগে তার আরেকজন স্বামী ছিলেন, সেখানেও ডিভোর্স হয়েছিল। আমার সাথে বিয়ের পর আমরা নওগাঁর নজিপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতাম। তার প্রথম স্বামীর ঘরে মুনতাহা নামের আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। আমার সাথে সংসারে তার সাড়ে তিন বছরের একটি ছেলে রয়েছে।
তিনি আরো জানান, একদিন সে আমাকে বলে তুমি ঘর থেকে বের হয়ে যাও, তোমাকে আমার দরকার নেই। এরপর গত পাঁচ মাস ধরে তার সাথে কোনো যোগাযোগ ছিল না বলেও জানান তিনি। রুমি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন, পরবর্তীতে এনসিপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। পরে পুলিশ ফোন করে আত্মহত্যার খবর জানায়।
নিহতের খালাতো ভাই মো: সোয়েইব হোসেন জানান, রুমি ঢাকায় ওই ছাত্রী হোস্টেলে একাই থাকতেন। তার দু’টি সন্তান রয়েছে, একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তারা দু’জনই নওগাঁর গ্রামের বাড়িতে বসবাস করে। ঢাকায় সে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরি করত। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
এদিকে এনসিপি ধানমণ্ডি থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী জান্নাতআরা রুমির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির প থেকে এক শোকবার্তা দিয়েছে দলটি। দলটির দাবি, দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত মানসিক নির্যাতন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প থেকে আসা ধারাবাহিক হুমকির ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
শোকবার্তায় জানানো হয়, মৃত্যুর আগে জান্নাতআরা রুমি দীর্ঘ সময় ধরে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির শিকার ছিলেন। তাকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছিল। এনসিপি অভিযোগ করেছে যে, গত ১৩ নভেম্বর হুমকিদাতাদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর কাছে জমা দেয়া হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ােভ বিরাজ করছে।
আরো জানানো হয়, জান্নাতআরা রুমির এই মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি বিরোধী রাজনীতির কণ্ঠরোধ করার একটি নোংরা অধ্যায়। একজন সাহসী নারী কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্কিত ও বিপর্যস্ত করে তোলার এই প্রক্রিয়াকে দলটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছে। এনসিপি এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়ভার স্পষ্ট করে অবিলম্বে একটি নিরপে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।



